
ঢাকায় দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো আজ বুধবার শুরু হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনীর ২০তম আসর। এবারের প্রদর্শনীর প্রতিপাদ্য ‘সম্মুখসারি থেকে ভবিষ্যতের পথে’। এতে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। আয়োজকেরা জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রদর্শনীটি শেষ হবে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
রাজধানীর পূর্বাচলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ডেনিম এক্সপো আজ সকালে শুরু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় বিকেলে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডেনিম এক্সপো কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্ডিটেক্সের বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অঞ্চলের প্রধান হাভিয়ের সান্তোনহা ওলসিনা, বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোস্তাফিজ উদ্দিন, প্যাসিফিক জিনসের পরিচালক লুথমেলা ফারিদ, বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল প্রমুখ।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ইইউ বাংলাদেশের মতো এমন একটি দেশের দিকে তাকিয়ে আছে যারা অর্থনৈতিক যাত্রার নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, উচ্চমানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া।
ইইউ রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সদ্য শুরু হওয়া পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)–সংক্রান্ত অনুরোধ বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যালোচনা করছে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় বাজারেই ডেনিম রপ্তানিতে চীনের চেয়ে এগিয়ে। এ অর্জনের পেছনে বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি একমাত্র কারণ নয়, তবে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
বিজিএমইএর সভাপতি আরও বলেন, ‘আমরা এলডিসি থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে। ঢাকার প্রতিটি বোর্ডরুম ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিজিএমইএর অবস্থান স্পষ্ট—এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বর্তমানে যেসব বাণিজ্যিক সুবিধা আমরা পাচ্ছি, তা পরিবর্তিত হবে। আমরা যদি প্রস্তুত না থাকি, তবে শিল্প খাত এর প্রভাব অনুভব করবে। বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতই অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। যথাযথ বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে এই শিল্পই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’