রাজধানীর আদাবর এলাকার বাসিন্দা শাহীনুর বেগম আজ বৃহস্পতিবার সকালে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে সবজি কিনতে যান। একটি দোকানে ঝিঙে ও পটোলের দাম জিজ্ঞাসা করলেন। বিক্রেতা জানান, দুটি সবজির কেজিই ৭০ টাকা করে। একটু কমে কেনার আশায় ৬০ টাকা দাম বললেন শাহীনুর; কিন্তু বিক্রেতা তাতে রাজি হলেন না।
দামে বনিবনা না হওয়ায় পাশের সবজির আরও দুটি দোকানে যান শাহীনুর বেগম। সেখানেও বিক্রেতা ঝিঙে ও পটোলের এক দাম ৭০ টাকা জানিয়ে দেন। শেষে নিরুপায় হয়ে এ দামেই এক কেজি ঝিঙে ও আধা কেজি পটোল কেনেন এই নারী।
শ্যামলী এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন শাহীনুর বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবজির বাজারে এখন সব এক দাম, বিক্রেতা যা চাইবেন, তা–ই চূড়ান্ত। ক্রেতাদের প্রতি বিক্রেতাদের মনোভাব হচ্ছে, নিলে নেন, না নিলে না নেন। সবজির বাজার যেন এক দরের, দামাদামির সুযোগ নেই।’
সাধারণত মাছ ও পচনশীল সবজির বাজারে দরাদরি করে পণ্য বেচাকেনা হয়। এতে সীমিত আয়ের মানুষদের কিছুটা অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ থাকে; কিন্তু দুই বছর ধরে দরাদরির এই ব্যবস্থা যেন অনেকটা উঠে গেছে বলে জানালেন ক্রেতা–বিক্রেতা উভয়েই।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা বেশির ভাগ সবজি ও মাছ অনেকটা নির্দিষ্ট দামে বিক্রি করছেন। ওই দামের চেয়ে কমে মাছ–সবজি বিক্রি করতে চান না বিক্রেতারা। বাজারভেদে দামের পার্থক্য থাকে। তবে দেখা গেছে, একটি বাজারের প্রায় সব দোকানেই নির্দিষ্ট দামে এসব পণ্য বেচাকেনা হয়। সেখানে দরাদরির সুযোগ কম।
ক্রেতাদের মধ্যে যাদের পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে, তাঁরা হয়তো সেভাবে দরদাম করেন না; কিন্তু এই ‘এক দরের’ কেনাকাটায় শাহীনুর বেগমের মতো সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের ওপরে প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপ বাড়ছে।
বিক্রেতারা অবশ্য এই ‘এক দরের’ দামের পেছনে কিছু যুক্তি দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, রাজধানীর খুচরা বিক্রেতারা নির্দিষ্ট কয়েকটি পাইকারি বাজার থেকে এসব সবজি ও মাছ কেনেন। ফলে একই বাজারের বিক্রেতাদের দামের ক্ষেত্রে তারতম্য কিছুটা কম থাকে। দ্বিতীয় কারণ হলো বাজারে ক্রেতাদের চাপ আগের তুলনায় বেশি। ফলে একজন ক্রেতার পেছনে দরাদরির জন্য বেশি সময় দিলে বেশি সংখ্যক ক্রেতা ধরতে পারেন না বিক্রেতারা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ জানান, গত কয়েক বছরে সবজির বাজারে এক দামে পণ্য বেচাকেনার চল তৈরি হয়েছে। এই এক দর মানে সব দোকানে একই দামে বিক্রি হয়, বিষয়টা এমন না। সবজির মান, ক্রয় মূল্য ও দোকানভেদে দাম ভিন্ন হয়। মূল ঘটনা হচ্ছে, বিক্রেতারা এখন আর একাধিকবার দামাদামির সুযোগ দিতে চান না।
এদিকে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এর মধ্যে বেশি দাম বেড়েছে শসা, টমেটো, পেঁপে, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার। আজ বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল ৫০–৬০ টাকা। টমেটোর দাম কেজিতে ১০–১৫ টাকা বেড়ে ৫০–৬০ টাকা হয়েছে। ঝিঙে ও চিচিঙ্গার দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহনে গাড়িভাড়া বেড়েছে। আর গত তিন দিনে বৃষ্টির কারণে পণ্যের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। এই দুই কারণে বাজারে কয়েক ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।