সারা মাস ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করলে বিনিময়ে ব্যাংকগুলো দেবে ‘রিওয়ার্ড পয়েন্ট’
সারা মাস ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করলে বিনিময়ে ব্যাংকগুলো দেবে ‘রিওয়ার্ড পয়েন্ট’

কার্ডের খরচেই যেভাবে জমাবেন ‘উপহারের ডালি’

ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন পরিচিত একটি শব্দবন্ধ ‘রিওয়ার্ড পয়েন্ট’। ঈদের মতো বড় উৎসব হোক বা প্রিয়জনের জন্মদিন—উপহার পেতে সবারই ভালো লাগে। তবে এখন আর উপহারের জন্য কারও অপেক্ষায় থাকতে হয় না। আপনি সারা মাস ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করলে বিনিময়ে ব্যাংকগুলো আপনাকে দেবে ‘রিওয়ার্ড পয়েন্ট’।

সিটি ব্যাংকের আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডে প্রতি ৫০ টাকা খরচে মিলছে ১ পয়েন্ট। এই পয়েন্ট জমানো মানে কেবল ক্যাশব্যাক পাওয়া নয়। জমানো পয়েন্ট দিয়ে জুয়েলারি শপ থেকে গোল্ড কেনা, ইনস্যুরেন্সের প্রিমিয়াম দেওয়া, এমনকি বিমানের টিকিটও বুক করা যাচ্ছে। ইস্টার্ন ব্যাংকের ‘স্কাইকয়েন’ বা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ‘থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি রিওয়ার্ডস’ এখন জীবনযাত্রাকে এতটাই সহজ করে দিয়েছে যে শপিংয়ের বিল মেটাতে পকেটের টাকা খরচ করতে হয় না বললেই চলে।

বড় কেনাকাটায় নেই ঋণের চাপ

পছন্দের ল্যাপটপ বা দরকারি ওভেনটা কিনতে গিয়ে আমরা অনেক সময় বাজেট মেলাতে হিমশিম খাই। কিন্তু আপনার হাতে থাকা ব্যাংক কার্ডটি এখন করছে এসব সমস্যার সহজ সমাধান। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বড় অঙ্কের যেকোনো কেনাকাটা ও লেনদেন এখন কয়েক ক্লিকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইএমআইতে রূপান্তর করা যায়। এখানে দারুণ একটা সুবিধা হলো—আপনার কাছে যদি পুরো টাকাটা একবারে দেওয়ার মতো না–ও থাকে, তবে আপনি ‘ডাউন পেমেন্ট’ বা আংশিক টাকা পরিশোধ করে বাকিটা ৩ থেকে ৩৬ মাসের কিস্তিতে ভাগ করে নিতে পারেন। দেশের প্রায় সব বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডের আউটলেটে (যেমন ট্রান্সকম, ফেয়ার ইলেকট্রনিকস বা এপেক্স) এখন শূন্য শতাংশ ইন্টারেস্টে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। এতে মাস শেষে বাজেটে যেমন টান পড়ছে না, তেমনি পূরণ হচ্ছে কেনাকাটার শখটাও।

খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা

আমরা অনেকেই জানি না, মাস শেষে নেটফ্লিক্স বা স্পটিফাইয়ের মতো অন ডিমান্ড প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশনে কত টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক কার্ডের অ্যাপগুলো এখন আপনার হয়ে এই হিসাব রাখছে। সিটি টাচ, ব্র্যাক ব্যাংক আস্থা বা ইবিএল স্কাইব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে অনায়াসেই দেখতে পারবেন আপনার অপ্রয়োজনীয় কোনো ‘অটো-ডেবিট’ চালু আছে কি না। শুধু ট্র্যাকিং নয়, চাইলে এক ক্লিকেই সেই পেমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া যায়। এতে একদিকে যেমন আপনার অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর সুযোগ থাকছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে একটি ফিন্যান্সিয়াল ডিসিপ্লিন বা আর্থিক শৃঙ্খলাব্যবস্থাও।

কেবল খরচ নয়, স্মার্ট লাইফস্টাইলের সঙ্গী

একসময় পকেটে ক্রেডিট কার্ড থাকা মানেই ছিল মাসের শেষে বাড়তি ঋণের দুশ্চিন্তা আর ইন্টারেস্টের ভয়। কিন্তু ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের এই যুগে সে ধারণাটি বদলে যাচ্ছে। এখন ব্যাংক কার্ডে প্রায় প্রতিটি লেনদেনেই রয়েছে উপহার আর সঞ্চয়ের সুযোগ। দিনশেষে আপনার পকেটের এই ছোট ব্যাংক কার্ডটি এখন স্বাচ্ছন্দ্য আর সুশৃঙ্খল জীবনের বিশ্বস্ত পাহারাদার। তাই আপনার কাছে থাকা ব্যাংক কার্ডটি স্মার্টলি ব্যবহার করে প্রতিটি লেনদেনেই উপভোগ করুন সঞ্চয়ের আনন্দ!