শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন পর আবারও লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে বেক্সিমকো। ৯ জুন কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বা ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর আজ রোববার প্রথম কোম্পানিটির শেয়ারের এই গতি দেখা গেছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো।
ঢাকার বাজারে আজ কোম্পানিটির ১০৬ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ারের হাতবদল হয়, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৮ শতাংশ। এ ছাড়া এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ২ টাকা ৮০ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ২০ পয়সায়। ৯ জুন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির পুনর্গঠিত কমিশন কোম্পানিটির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একই দিন ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইসও তুলে নেওয়া হয়। ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর ৯ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ১৩ কার্যদিবসই কোম্পানিটির শেয়ারের দরপতন হয়। তাতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৭৪ শতাংশ বা ৮১ টাকা ২০ পয়সা কমে ২৮ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে। অর্থাৎ ১৩ কার্যদিবসে এক-তৃতীয়াংশ দর হারায় কোম্পানিটি। এরপর আজ এটির দাম ঘুরে দাঁড়ায়।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১১০ থেকে ২৮ টাকায় নেমে আসার পর কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ কারণে আজ লেনদেন শুরুর পর এটির শেয়ারের ব্যাপক ক্রয়াদেশ আসতে শুরু করে। আর তাতেই ঘুরে দাঁড়ায় এটির দাম।
এদিকে বেক্সিমকোর পাশাপাশি এদিন একই গ্রুপের তালিকাভুক্ত অন্যান্য শেয়ারের দামও বেড়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৮০ পয়সা বা ২ শতাংশ। আর শাইনপুকুর সিরামিকসের প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩ শতাংশ বা ৭০ পয়সা। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আজ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের এই তিন কোম্পানির সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৪৪ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১০ শতাংশের বেশি।
বেক্সিমকোর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহের ওপর ভর করে আজ দিন শেষে ঢাকার বাজারের লেনদেন আবারও ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আজ দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। ১৫ জুনের পর এটিই ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন।
জানতে চাইলে ডিএসইর সাবেক পরিচালক শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারের দামের উল্লেখযোগ্য মূল্য সংশোধন হয়েছে। এই অবস্থায় এটির শেয়ারের বিনিয়োগকারীদের অনেকে দাম সমন্বয়ের জন্য এটির শেয়ার কেনা শুরু করেছেন। তাই বেক্সিমকোর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন কোম্পানির সার্বিক ব্যবসায়িক অবস্থা ও আর্থিক প্রতিবেদন যত দ্রুত সম্ভব প্রকাশ করা দরকার; যাতে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা জেনে তাঁদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
লেনদেনের পাশাপাশি এদিন সূচকও বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দিন শেষে ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭২০ পয়েন্টে। গত ২১ মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইএক্সের সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৭৩৬ পয়েন্টের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। ঢাকার বাজারে আজ সূচকের উত্থানে বড় ভূমিকা ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, সিটি ব্যাংক, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটা। এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে এদিন ডিএসইএক্স সূচকটি বেড়েছে ৩৩ পয়েন্টের বেশি।