পুঁজিবাজারে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির শিকার হওয়া বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। আজ দ্বিতীয় দিনে মশিউর সিকিউরিটিজের ১২২ জন বিনিয়োগকারীর মধ্যে চেক বিতরণ করা হয়েছে। ঢাকার নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে
পুঁজিবাজারে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির শিকার হওয়া বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। আজ দ্বিতীয় দিনে মশিউর সিকিউরিটিজের ১২২ জন বিনিয়োগকারীর মধ্যে চেক বিতরণ করা হয়েছে। ঢাকার নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে

পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু

গতকাল সোমবার প্রথম দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জন বিনিয়োগকারীর মধ্যে চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে মশিউর সিকিউরিটিজের ১২২ জন বিনিয়োগকারীকে মোট ৩ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

শেয়ারবাজারে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির শিকার হওয়া বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এরই অংশ হিসেবে প্রথম দফায় মশিউর সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ শুরু হয়েছে।

গতকাল সোমবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ। প্রথম দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জন বিনিয়োগকারীর মধ্যে চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে মশিউর সিকিউরিটিজের ১২২ জন বিনিয়োগকারীকে মোট ৩ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনায় ডিএসইর বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল (আইপিএফ) থেকে গ্রাহকদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

২২ সেপ্টেম্বর ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, পুঁজিবাজারে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতি করে খেলাপি হওয়া পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার ৩৩২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর ৭২ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধ করবে ডিএসই। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী বা গ্রাহক তাঁদের বিনিয়োগের পুরো টাকা ফেরত পাবেন। যেসব ব্রোকারেজ হাউসের বিনিয়োগকারীরা এই অর্থ ফেরত পাবেন, সেগুলো হলো মশিউর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাঙ্কো সিকিউরিটিজ ও শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি। এর মধ্যে প্রথম দফায় মশিউর সিকিউরিটিজের গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের অর্থও পর্যায়ক্রমে দেওয়া শুরু হবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসই জানিয়েছে, আজ সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ঢাকার নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে বিনিয়োগকারীর হাতে অর্থের চেক তুলে দেওয়া হয়। ডিএসই আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ধারাবাহিকভাবে এই চেক বিতরণ কর্মসূচি চালু থাকবে। পরবর্তী দিনগুলোর জন্য সময়সূচি এসএমএসের মাধ্যমে আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে।

গত সোমবার চেক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানান, ভবিষ্যতে কোনো ব্রোকারেজ হাউস যেন গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে, সে জন্য শিগগিরই প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউসের জন্য একটি সমন্বিত ও সুরক্ষিত ‘ইউনিফাইড ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার’ এবং ‘অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস)’ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ডিএসই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সরাসরি সমন্বিত গ্রাহক হিসাবের হালনাগাদ তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

ডিএসই জানায়, উল্লিখিত পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করে ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী প্রতারণার শিকার হন। ইতিমধ্যে এই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশকে আইপিএফ ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এখন ডিএসই অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে। এর ফলে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীর শতভাগ পাওনা পরিশোধ করা হয়ে যাবে। এই পাওনার মোট পরিমাণ ৭২ কোটি টাকা।

বাকি ৫৯৫ জন বড় বিনিয়োগকারীর অবশিষ্ট পাওনা (৫ লাখ টাকার বেশি যত থাকে) উদ্ধারে খেলাপি হাউসগুলোর শেয়ার, সম্পত্তি ও পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে অর্থ পরিশোধের আইনি পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে ডিএসই।