ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংক

৯ মাসে ২,১২১ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা অর্জন ব্র্যাক ব্যাংকের

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা মুনাফা করেছে দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংক। গত বছরের শেষে ব্যাংকটি ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছিল। সেখানে এ বছর ৯ মাসেই গত বছরের কাছাকাছি মুনাফা করে ফেলেছে ব্যাংকটি। এর আগে ৯ মাসে ব্যাংকটি কখনো এত মুনাফা করেনি।

গত বুধবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় চলতি বছরের তিন প্রান্তিকের (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। তাতে মুনাফার এই তথ্য উঠে এসেছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে মুনাফার এই তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। যদিও ৯ মাসে রেকর্ড মুনাফার পরও এদিন ব্যাংকটির শেয়ারের দাম কমেছে।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা ৫৮৫ কোটি টাকা বা ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটির সমন্বিতভাবে মুনাফা করেছিল ১ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। এ বছরের একই সময়ে তা ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রতি প্রান্তিকে (তিন মাস) গড়ে ব্যাংকটি ৭০৭ কোটি টাকা করে মুনাফা করেছে। মুনাফার এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাকি তিন মাস (অক্টোবর–ডিসেম্বর) শেষে ব্যাংকটির মুনাফা ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। চলতি প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর) মুনাফা যতই হোক বছর শেষে যে আবারও ব্যাংকটি রেকর্ড মুনাফা করতে যাচ্ছে, এটি মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ, আর মাত্র ১২৯ কোটি টাকা মুনাফা করলেই গত বছরের রেকর্ড ভাঙবে ব্যাংকটি।

চলতি বছরের ৯ মাসে ব্যাংকটির রেকর্ড মুনাফার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সরকারি ট্রেজারি বিল বন্ড থেকে ব্যাংকটির আয়। এক বছরের ব্যবধানে এই খাত থেকে ব্যাংকটির আয় ৭৫০ কোটি টাকা বা ২২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে সরকারি ট্রেজারি বিল–বন্ড থেকে ব্যাংকটি আয় করেছে ৪ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।

বাজারে এখন ঋণের চাহিদা কম। তাই তারল্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের অনেক বেশি কৌশলী হতে হয়েছে। ব্যাংক খাতে সার্বিকভাবে ঋণের যে প্রবৃদ্ধি আমাদের ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি তার প্রায় দ্বিগুণ।
তারেক রেফাত উল্লাহ খান, এমডি, ব্র্যাক ব্যাংক

সরকারি বিল বন্ড থেকে আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃত সুদ আয়ও বেড়েছে ব্যাংকটির। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটি প্রকৃত সুদ আয় ছিল ১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির প্রকৃত সুদ আয় বেড়েছে ৪৮৯ কোটি টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ। এই সুদ আয় বেড়েছে মূলত ঋণের সুদ বাবদ ব্যাংকটির আয় বেড়ে যাওয়ায়। ঋণের সুদ বাবদ চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটি আয় করেছে ৬ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণের সুদ বাবদ ব্যাংকটির আয় বেড়েছে ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। ঋণের সুদ বাবদ আয় যতটা বেড়েছে, আমানতের সুদ বাবদ খরচ বেড়েছে তার চেয়ে কম। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটি আমানতের সুদ বাবদ আমানতকারীদের পরিশোধ করেছে ৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারে এখন ঋণের চাহিদা কম। তাই তারল্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের অনেক বেশি কৌশলী হতে হয়েছে। ব্যাংক খাতে সার্বিকভাবে ঋণের যে প্রবৃদ্ধি আমাদের ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি তার প্রায় দ্বিগুণ। আমরা ঋণের প্রবৃদ্ধি যেমন ধরে রেখেছি, তেমনি আমানতকারী ও শেয়ারধারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারির ভিত্তিতে তারল্য ব্যবস্থাপনা করেছি। তাতে বিনিয়োগ থেকেও আমাদের ভালো আয় হয়েছে। এ ছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্যেও আমাদের ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা ৯ মাসে রেকর্ড মুনাফা করেছি।’

দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক সর্বোচ্চ মুনাফাকারী ব্যাংক। গত বছর যেমন এটি সর্বোচ্চ মুনাফা করেছিল। চলতি বছরের ৯ মাসের হিসাবেও ব্যাংকটি সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে। যদিও শেয়ারবাজারে গতকাল ব্যাংকটির শেয়ারের দাম ৭০ পয়সা বা ১ শতাংশের বেশি কমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৬৭ টাকায়। দাম কমলেও এদিন ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ব্যাংকটি। দিন শেষে ১৩ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ারের হাতবদল হয়েছে।