চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জুতা বিক্রি ও ব্যবসার মুনাফায় বড় সাফল্য পেয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি বাটা শু। গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় বাটার জুতা বিক্রি বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি। আর একই সময়ের ব্যবধানে কর–পরবতী মুনাফা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। আজ মঙ্গলবার আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাটা শু জুতাসহ অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করেছে ৫৬৯ কোটি টাকার। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বা ব্যবসা বেড়েছে ৫২ কোটি টাকার বা ১০ শতাংশের বেশি। বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানিটির মুনাফাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বাটা শু কর–পরবর্তী মুনাফা করেছে ৫০ কোটি টাকার বেশি। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ২৩ কোটি টাকার বা ৮৫ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ গত বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধ শেষে বাটার মুনাফা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুতা বিক্রি যতটা বেড়েছে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বেড়েছে কোম্পানিটির মুনাফা। তার বড় কারণ, কোম্পানিটি এ বছর তাদের পরিচালন খরচ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়েছে। পাশাপাশি সুদসহ কোম্পানির আর্থিক খরচও গত বছরের চেয়ে কমেছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে কোম্পানির মুনাফায়। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির পরিচালন খরচ ছিল ১৮২ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিক্রি বাড়ার পরও পরিচালন খরচ কমে দাঁড়িয়েছে ১৭৪ কোটি টাকা। ফলে পরিচালন খরচ বাবদ কোম্পানিটি গত বছরের চেয়ে ৮ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় করেছে। পাশাপাশি সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচে সাশ্রয় করেছে প্রায় ২ কোটি টাকা। সাশ্রয় হওয়া এসব অর্থ সরাসরি কোম্পানির মুনাফায় যোগ হয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদন খরচও আগের বছরের সমপর্যায়ে ধরে রেখেছে কোম্পানিটি। কোম্পানির আয় থেকে উৎপাদন, পরিচালন, আর্থিক খরচ, করসহ সব ধরনের খরচ বাদ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, সেটিই কোম্পানির মুনাফা।
অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি বাটা শু আলাদাভাবে সর্বশেষ এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের চেয়ে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বাটা শু ব্যবসা করেছে ১৮৯ কোটি টাকার। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৫৮ কোটি টাকা। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি প্রায় ১০ কোটি টাকা লোকসান করেছিল। সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে কোম্পানিটি মুনাফা করেছে ১৩ কোটি টাকার বেশি।
বাটা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে তাদের বিক্রি ও মুনাফা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুটি ঈদের বড় ভূমিকা ছিল। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বাটার জুতা বিক্রি বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক কৌশলের সঠিক বাস্তবায়ন, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
এদিকে মুনাফা বৃদ্ধির খবরে শেয়ারবাজারে আজ মঙ্গলবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ঢাকার শেয়ারবাজারে আজ লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টায় কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম সাড়ে ১৪ টাকা বা দেড় শতাংশের বেশি বেড়েছে। বেলা ১১টায় ডিএসইতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৯১৩ টাকা। ১৯৮৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটি বর্তমানে ভালো মানের কোম্পানি হিসেবে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত।