চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ

কমোডিটি এক্সচেঞ্জের জন্য নীতি সহায়তা দাবি সিএসইর

দেশে প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা চেয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের বিকাশে ছয় দফা প্রস্তাবও দিয়েছে সিএসই।

আজ রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় সিএসই কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাজেট–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এতে বাজেট পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম সাইফুর রহমান মজুমদার। এ সময় সিএসইর চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান, পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিএসই জানায়, বাজেটে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ, ইটিএফ, ইনডেক্স হেজিং ও কারেন্সি হেজিংয়ের মতো নতুন আর্থিক পণ্য চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানায় তারা। এসব উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারকে আরও আধুনিক ও বহুমুখী করে তুলবে।

সিএসই জানিয়েছে, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি। এখন সরকারি নীতিগত সহায়তা পেলে সেটি দ্রুত চালু সম্ভব হবে। বাজেটে ঘোষিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদন ও তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ বাজারে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াবে। পাশাপাশি দ্রুত শেয়ার নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু হলে বাজারের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আসবে। বন্ড বাজার উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে বাজেটে যেসব পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব উদ্যোগকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সিএসই।

সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি বা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের জন্য পাঁচ বছরের কর অবকাশসুবিধা, তালিকাভুক্ত ও অ–তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে তিন বছরের জন্য কর ছাড় সুবিধা দেওয়া, বিদেশি কারিগরি সেবার ওপর কর কমানো এবং করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ করহার বহাল রাখার আহ্বান প্রস্তাবও করেছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিএসইর এমডি এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বমানের এক্সচেঞ্জ স্থাপনের জন্য প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন। এ বিবেচনায় সিএসইর কমোডিটি এক্সচেঞ্জকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হলে একটি যুগোপযোগী মার্কেট গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে সিএসইর চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাজেটের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে এবং বিনিয়োগের পরিধি আরও বাড়বে। কমোডিটি এক্সচেঞ্জসহ নতুন আর্থিক পণ্য চালু হলে তাতে বাজারে বৈচিত্র্য আসবে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক বাজারের দিকে অগ্রসর হবে।