টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক ও মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুটি জেটি নির্মাণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেজা ও বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বেজা কার্যালয়ে।
টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক ও মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুটি জেটি নির্মাণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেজা ও বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বেজা কার্যালয়ে।

টেকনাফের সাবরাংয়ে জেটি হবে, পর্যটকেরা যেতে পারবেন সেন্ট মার্টিন

কক্সবাজারের টেকনাফে অবস্থিত সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে একটি জেটি নির্মাণ করা হবে। এই জেটির মাধ্যমে পর্যটকেরা সেন্ট মার্টিন যেতে পারবেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) কেন্দ্রীয়ভাবে আরেকটি জেটি নির্মাণ করা হবে। এটি এনএসইজেড বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করতে পারবে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এ জেটি দুটি নির্মাণ করবে। জেটি নির্মাণের পাশাপাশি আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ, পরিচালনার দায়িত্বেও থাকবে বিআইডব্লিউটিএ।

এ লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিআইডব্লিউটিএ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বেজা কার্যালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেজা।

বেজার পক্ষে সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডের সচিব ও যুগ্ম সচিব জুলিয়া মঈন এবং বিআইডব্লিউটিএর পক্ষে সংস্থাটির পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মো. সাইফুল ইসলাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।  

অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) নজরুল ইসলাম, সালেহ আহমদ ও মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন। বিআইডব্লিউটিএর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেজা জানিয়েছে, স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী জেটিসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণে ইতিমধ্যে এনএসইজেডে ৬ দশমিক ১৮ একর ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে ৫ একর জায়গা চিহ্নিত করেছে বেজা। এই জেটি থেকে যে নিট মুনাফা আসবে তা বেজা ও বিআইডব্লিউটিএ ৪৫:৫৫, এই অনুপাতে ভাগ করে নেবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেজা ও বিআইডব্লিউটিএর মধ্যে হওয়া এই চুক্তি একটি মাইলফলক। বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে এবং জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্পাঞ্চলে পরিণত করতে এই জেটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বেজার আরেক নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ বলেন, নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে পর্যটন শিল্পের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বিবেচনায় নিয়েও বেজা সেখানে জেটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সাবরাংয়ে জেটিটি নির্মাণ হলে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ব্যবস্থাপনার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিআইডব্লিউটিএ এই প্রকল্প সফল ও কার্যকরভাবে সমাপ্ত করতে চায়।