জেবিসির ৮টি আঞ্চলিক, ১২টি করপোরেট, ৮১টি সেলস এবং ৪৫২টি শাখা কার্যালয়ে গিয়ে যে কেউ প্রমীলা ডিপিএসের নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন।

জীবন বিমা খাতের একমাত্র রাষ্ট্রীয় বিমাকারী প্রতিষ্ঠান জীবন বিমা করপোরেশনের (জেবিসি) একটি আমানত কর্মসূচি রয়েছে। এর নাম ‘প্রমীলা ডিপিএস’। স্বল্প আয়ের প্রমীলা বা নারীদের কথা মাথায় রেখে দুই বছর আগে চালু করা হয়েছে এ কর্মসূচি। গ্রাহকদের মধ্যে তা ইতিমধ্যে সাড়া জাগিয়েছে বলে জেবিসির কর্মকর্তারা জানান। নামে প্রমীলা হলেও এ পলিসি করার সুযোগ রাখা হয়েছে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই।
সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা মাসিক জমা দিয়ে প্রমীলা ডিপিএস করা যায়। তবে বয়সের একটা বিষয় রয়েছে এতে। এ ডিপিএসের গ্রাহক হতে গেলে সর্বনিম্ন বয়স হতে হবে ১৮ বছর। আর সর্বোচ্চ বয়স ৫৫ বছর। এ বিমার মেয়াদ পূর্তিকালীন বয়স কখনোই ৬০ বছরের বেশি হবে না বলে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রমীলা ডিপিএসের প্রিমিয়াম দিতে হবে মাসিক কিস্তিতে। তবে কেউ যদি মনে করেন এক বছরের প্রিমিয়াম একবারে জমা দেবেন, সেই সুযোগও রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবপত্র হিসেবে একটি ফরম পূরণ করেই এ পলিসির গ্রাহক হওয়া যায়। প্রস্তাবপত্রে থাকবে ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদি সাধারণ কিছু তথ্য। তবে প্রস্তাবপত্রের সঙ্গে বয়স প্রমাণের দলিল দাখিল করতে হবে। থাকতে হবে নমিনি বা মনোনীত ব্যক্তির নাম ও ছবি। এ ডিপিএসে ডাক্তারি পরীক্ষার কোনো প্রতিবেদন দিতে হবে না।
জেবিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্মসূচিটির প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পাঁচ বছরের জন্যও করা যায়। অনেকে কম সময়ের জন্য পলিসি চান, তাই এ ধরনের পলিসি করা হয়েছে।
গত শনিবার এ পলিসির একজন গ্রাহকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পলিসিটি ভালো। তবে এটি নিয়ে জেবিসির কোনো প্রচারণা নেই। আবার প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মধ্যেও এই পলিসির গ্রাহক বৃদ্ধি নিয়ে কোনো তাগিদ নেই।
মেয়াদ শেষে বিমা করা টাকা লাভসহ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়। তবে বিমা গ্রহীতার অকালমৃত্যু হলে বিমা করা টাকা লাভসহ দেওয়া হয় মনোনীত ব্যক্তিকে। আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, প্রিমিয়ামের ওপর আয়কর রেয়াত রয়েছে। যদিও বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে আয়কর রেয়াত দেওয়া হয় না।
জেবিসির উপমহাব্যবস্থাপক মো. লিয়াকত আলী খান বলেন, পলিসিটি চালুই করা হয়েছে নারীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন এবং বিমা নীতির গুরুত্ব অনুধাবন করে। এ ডিপিএসের আওতায় প্রতি ১ হাজার টাকায় ২০ টাকা করে বোনাস দেওয়া হয়।
জেবিসির আটটি আঞ্চলিক, ১২টি করপোরেট, ৮১টি সেলস এবং ৪৫২টি শাখা কার্যালয়ে গিয়ে যে কেউ প্রমীলা ডিপিএসের নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন। অফিসে গিয়ে নগদ টাকায় পলিসির প্রিমিয়াম জমা দেওয়া যায়, এ সুযোগ সব সময়ই রয়েছে।
এদিকে মুঠোফোনে আর্থিক সেবা দাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর মাধ্যমে জেবিসির প্রায় সব পলিসির প্রিমিয়ামই জমা দেওয়া যায়। নগদ ও নগদ অ্যাপের মাধ্যমে প্রমীলা ডিপিএসের প্রিমিয়াম দেওয়ার সুযোগও তৈরি করে রেখেছে জেবিসি। প্রথমে বিল পে বাটনে ক্লিক করে বিলার আইডি সিলেক্ট করতে হবে। এর পর টাইপ করতে হবে পলিসি নম্বর ও টাকার পরিমাণ। এর পর পিন টাইপ শেষে ট্যাপ করে ধরে রাখলে টাকা জমা হওয়ার একটি নোটিফিকেশন আসে। সব শেষ ধাপে পাওয়া যায় বিল পে রসিদ।