নতুন আরেকটি বছর শুরু হলো। নতুন বছরে প্রায় সবার নতুন পরিকল্পনা থাকে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে খরচ বেড়েছে। কিন্তু বিপদ–আপদে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দরকার হয়। এমনকি শখের মুঠোফোনসহ অন্যান্য পণ্য কিনে থাকেন।
তাই নতুন বছরে টাকা জমানোর পরিকল্পনা কীভাবে করবেন, তা নিয়ে অনেকে চিন্তায় থাকেন। বিশেষ করে তরুণদের আয় কম থাকে। অনেকে টিউশনি করেন, পার্টটাইম কাজ করেন। তাঁদের জন্য নতুন বছরে টাকা জমানোর সেরা উপায় হলো পরিকল্পনা, নিয়মিত অভ্যাস ও ধৈর্য। ছোট আয় থেকেও বড় সঞ্চয় সম্ভব।
১. আয় কত, তা ঠিক করুন
সঞ্চয় বা টাকা জমানোর জন্য প্রথমেই দরকার আপনার আয় কত। তাই বুঝতে হবে মাসে বা বছরে আপনার মোট আয় কত হয়। তারপর সঞ্চয়ের চিন্তা করুন। এটি তরুণদের জন্য, যাঁরা পার্টটাইম কাজ করেন কিংবা টিউশনি করেন। উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, বাসা থেকে হয়তো পকেট মানি পান দুই হাজার টাকা। টিউশনি বা পার্টটাইম চাকরি করে পান আরও পাঁচ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে সাত হাজার টাকা। এটিই আপনার মাসিক আয়।
২.খরচের হিসাব লিখে রাখুন
আপনার টাকা মাসে কোথায় খরচ হচ্ছে, তা পরিষ্কারভাবে লিখুন। যেমন ২ হাজার টাকা, নাশতা ও হাত খরচ ২ হাজার ৫০০ টাকা, মোবাইল রিচার্জ ৫০০ টাকা। মোট খরচ হলো পাঁচ হাজার টাকা। হাতে থাকে দুই হাজার টাকা।
৩. কেন সঞ্চয় করবেন
আপনি কেন টাকা জমাবেন, তা ঠিক করুন। যেমন নতুন ফোন কিনব, বই বা কোচিং ফি জমাব, জরুরি প্রয়োজনে টাকা রাখব ইত্যাদি।
৪. বাজেট তৈরি করুন
আপনার লক্ষ্য পূরণে আয়ের মধ্যে কত টাকা খরচ আর কত টাকা সঞ্চয় করবেন, তা ঠিক করুন। ধরুন, আপনার আয় সাত হাজার টাকা। খরচ হলো পাঁচ হাজার টাকা। সঞ্চয় হচ্ছে দুই হাজার টাকা।
৫. আগে সঞ্চয়, পরে খরচ করুন
টাকা হাতে পেলেই আগে সঞ্চয়ের অংশ আলাদা করুন। এতে একধরনের ফোর্স সেভিংস বা ধরেবেঁধে সঞ্চয় হয়ে যায়। যেমন মাসের শুরুতেই দুই হাজার আলাদা করে রাখলেন। বাকি টাকা দিয়ে মাসের খরচ হলো।
৬. অপ্রয়োজনীয় খরচ কমান
যেসব খরচ খুব দরকার নেই, সেগুলো বাদ দিন। যেমন প্রতিদিন বাইরে খাবার না খেয়ে সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন বাইরে খেতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় অনলাইন কেনাকাটা বন্ধ করে দিতে পারেন।
৭. ছোট অঙ্ক হলেও নিয়মিত জমান
টাকা কম হলেও নিয়মিত হলে অঙ্ক বড় হয়। যেমন প্রতিদিন ৫০ টাকা জমালে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা সঞ্চয় হবে।
৮. জরুরি তহবিল তৈরি করুন
হঠাৎ প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য আলাদা টাকা রাখুন। যেমন অসুস্থতা; জরুরি বই বা ফি। মাসে অন্তত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আলাদা করে রাখতে পারেন।
৯. ধার নেওয়া এড়িয়ে চলুন
ধার নিলে সঞ্চয় নষ্ট হয়। তাই অবশ্য ধার নেওয়া এড়িয়ে যাওয়া উচিত। হঠাৎ খরচ হলে আগে সঞ্চয় ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় ঋণ এড়িয়ে চলুন।
১০. মাস শেষে হিসাব পর্যালোচনা করুন
আপনার সঞ্চয় পরিকল্পনা কাজ করছে কি না দেখুন। সঞ্চয় পরিকল্পনা যতটা সম্ভব ঠিক রাখুন। কোথায় বেশি খরচ হয়েছে, তা বুঝে পরের মাসের পরিকল্পনা করতে পারেন।