আয়কর রিটার্ন জমার মৌসুম শুরু হয়েছে। গতবারের মতো এবারও সব করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এখন আর কর কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্ন দেওয়া যাবে না। তাই অনলাইন রিটার্নই একমাত্র ভরসা।
বর্তমানে সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। গতবার ৪৫ লাখের বেশি টিআইএনধারী অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন।
এবার আপনাকে অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে। তবে প্রক্রিয়াটি কীভাবে শুরু করবেন, তা নিয়ে আলোচনা হবে। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য আপনাকে প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই–রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে—
১. আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র।
২. ব্যবহারযোগ্য মোবাইল নম্বর (যা জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির সঙ্গে সংযুক্ত)
৩. একটি বৈধ টিআইএন।
প্রথমেই যেতে হবে www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটে। পরে ‘I am not registered yet’ বাটনে ক্লিক করুন। টিআইএন ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নির্ধারিত অংশ পূরণ করুন। এ সময়ে মুঠোফোনে আসা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) বা একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিবন্ধনের পাসওয়ার্ড সেট করুন।
নিবন্ধন নেওয়া মানে আপনি এনবিআরের অনলাইন রিটার্নের তালিকায় ঢুকে পড়লেন। এরপর আপনি যখন–তখন লগইন করতে পারবেন। যেদিন রিটার্ন দেবেন, সেদিন লগইন করে ধাপে ধাপে আপনার বার্ষিক আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ, দায় ইত্যাদি তথ্য পূরণ করে রিটার্ন জমা দেবেন।
লগইনের জন্য প্রয়োজন হবে আপনার টিআইএন ও পাসওয়ার্ড। যদি পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তাহলে ‘Forgot password’ অপশন ব্যবহার করে নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করতে পারবেন।
ই–রিটার্ন সিস্টেমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। সঠিক তথ্য প্রদান করে নির্ভুলভাবে রিটার্ন প্রস্তুতপূর্বক রিটার্ন জমা প্রদান করে তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
২০২৬–২০২৭ করবর্ষ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা প্রণোদনা পাবেন। ওই সময়ের পর দাখিলকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। ডিসেম্বর–পরবর্তী সময়ে দাখিলকৃত রিটার্নে অতিরিক্ত কর প্রদেয় হবে।