টাকা
টাকা

মাসে ১৬ হাজার ১৩১ টাকা জমিয়ে কোটিপতি হবেন কীভাবে

সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত মানুষেরা জীবনে কত সঞ্চয় করবেন, তার অন্যতম মানদণ্ড হচ্ছে কোটি টাকা। একসময় বড়লোক হওয়া মানে ছিল কোটিপতি হওয়া। কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কোটি টাকার সেই জৌলুশ আর নেই। কেননা, ঢাকা নগরে ফ্ল্যাটের দামই পড়ে এখন কোটি টাকার ওপরে।

তারপরও মধ্যবিত্তের কাছে কোটি টাকা এখনো বড় বিষয়। সব খরচ মিটিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের হাতে এক কোটি টাকা থাকলে শেষ জীবন একরকম স্বাচ্ছন্দ্যে অতিবাহিত করা যায়।

মানুষের এই প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই দেশের বিভিন্ন ব্যাংক কোটিপতি স্কিম নিয়ে এসেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকেরও আছে কোটিপতি স্কিম। এই স্কিমে টাকা জমিয়ে সর্বোচ্চ ২০ বছরে কোটিপতি হওয়া সম্ভব। এই স্কিমের মেয়াদ ৪ থেকে ২০ বছর।

কত মেয়াদে কত কিস্তি

সাধারণত দেখা যায়, যে হিসাবের মেয়াদ যত বেশি হয়, সেই হিসাবের কিস্তি তত কম হয়। আবার মেয়াদ কম হলে কিস্তি বেশি হয়। দেখে নেওয়া যাক, এমটিবি কোটিপতি স্কিমে কোন মেয়াদে কত কিস্তি দিতে হয়:

বৈশিষ্ট্য

একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি একক অথবা যৌথভাবে এই হিসাব খুলতে পারবেন।

এই স্কিমের মেয়াদ ৪/৫/৬/৮/১০/১২/১৫/১৮/২০ বছর। একজন গ্রাহকের নামে একই শাখায় একাধিক হিসাব খোলা যাবে।

মাসিক কিস্তির অর্থ প্রতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে নগদ, চেক অথবা আমানকারীর নির্দেশ অনুযায়ী অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে জমা দিতে হবে। ২০ তারিখ যদি ছুটির দিন হয়, তবে পরবর্তী কর্মদিবসে কিস্তির অর্থ জমা দিতে হবে।

পরপর তিনটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে হিসাবটি বন্ধ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে নিট পরিশোধযোগ্য অর্থ ডিপোজিট স্কিমের সঙ্গে সংযুক্ত হিসাবে অথবা সানড্রি ডিপোজিট হিসাবে স্থানান্তর করে গ্রাহককে জানানো হবে।

নির্ধারিত মেয়াদের আগে গ্রাহক জমাকৃত অর্থ তুলতে চাইলে সঞ্চয়ী হিসাবের প্রযোজ্য হারে সুদ দেওয়া হবে। তবে এক বছরের আগে অর্থ উত্তোলন করা হলে সুদ দেওয়া হবে না।

গ্রাহকের মৃত্যু হলে স্কিমটি বন্ধ হয়ে যাবে এবং ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী জমাকৃত অর্থ ও প্রাপ্য সুদ হিসাবের নমিনিকে দেওয়া হবে।

অগ্রিম কিস্তি দেওয়া যেতে পারে। তবে এর জন্য অতিরিক্ত সুদ দেওয়া হবে না।

সময়মতো কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রতি মাসে কিস্তির টাকার ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ অথবা ২০০ টাকা-এর মধ্যে যেটি বেশি, সেটি ধার্য করা হবে।

গ্রাহকের ঠিকানা পরিবর্তিত হলে তা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট শাখায় লিখিতভাবে জানাতে হবে।

সরকারি বিধান অনুযায়ী মেয়াদান্তে প্রদেয় অর্থের ওপর উৎসে কর ও আবগারি শুল্ক কর্তন করা হবে।

কী লাগবে

হিসাব খুলতে সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগে, এ ক্ষেত্রেও তা-ই লাগবে। আপনার নিজের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), নমিনির ছবি ও এনআইডি এবং ওই ব্যাংকে হিসাব আছে, এমন একজন পরিচয়দানকারী। গ্রাহকের ছবি সত্যায়ন করবেন পরিচয়দানকারী। নমিনির ছবি সত্যায়ন করবেন গ্রাহক। ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে সবার স্বাক্ষর লাগবে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংক যোগাযোগ করবে, এমন একজনের নাম-ঠিকানাও দিতে হবে।

সতর্কতা

বাজারে বিভিন্ন ব্যাংক নানা ধরনের সঞ্চয় অফার দেয়। তাই সঞ্চয় করার আগে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখে সঞ্চয় বা বিনিয়োগে যাওয়া উচিত, তা না হলে দুর্বল ব্যাংকে বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়তে পারেন গ্রাহক।

এ ছাড়া সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি প্রথমে মাথায় রাখা উচিত, সেটি হলো খরচের আগেই আয় থেকে সঞ্চয় আলাদা করা। অর্থাৎ ব্যয়ের পর আপনি সঞ্চয় করবেন, তা নয়; বরং আগে ঠিক করুন, কত টাকা সঞ্চয় করবেন—এরপর ব্যয় করুন। টাকা জমানোর পাশাপাশি বুঝেশুনে কিছু বিনিয়োগও করা যেতে পারে। সঞ্চয়ের পরিমাণ অল্প হলেও নিয়মিত সঞ্চয় করুন। আয় বাড়াতে না পারলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ান।

এই চর্চা নিয়মিত করলে একসময় দেখা যাবে, সাধ্যের মধ্যেও প্রয়োজনীয় সঞ্চয় করা সম্ভব।