চলতি বছরের শুরু থেকে ছোট ছোট সঞ্চয়পত্র গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। যাঁদের ৫ লাখ টাকার কম সঞ্চয়পত্র কেনা আছে, অনেক ব্যাংক তাঁদের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা দেওয়ার সময় ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখছে, এমন অভিযোগ আসে। এত দিন এমন সঞ্চয়পত্রে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখা হতো।
তবে সম্প্রতি পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ নয়, ৫ শতাংশ কাটতে হবে—এমন আদেশ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যাদের ইতিমধ্যে টাকা কেটে রাখা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়া হবে।
এবার দেখা যাক, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কোন সঞ্চয়পত্রে ৫ শতাংশ উৎসে কর আছে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে নেই
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে এর ওপর মুনাফা কোনো উৎসে কর কেটে রাখা হয় না। মূলত অবসরভোগীদের বাড়তি সুবিধা দিতেই এই নিয়ম করা হয়েছে। এতে অবসরভোগীরা মুনাফার টাকা কিছুটা বেশি পান।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পঞ্চম বছর শেষে, অর্থাৎ মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, এখনো তা বহাল রাখা হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ বহাল থাকল।
বাকি ৩ সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫%
পরিবার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র—এই তিন ধরনের সঞ্চয়পত্রেই ৫ লাখ টাকার কম বিনিয়োগ করলে মুনাফা তোলার সময় ৫ শতাংশ হারে উৎসে কেটে রাখা হবে।
তবে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে মুনাফার টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎস কেটে রাখা হবে।
কম বিনিয়োগে বেশি মুনাফা
কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কম। এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ পরিমাণ বা এর কম হলে মুনাফার হার বেশি হবে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে। আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সরকার নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করে থাকে।
দেশে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন যত ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্র। এ সঞ্চয়পত্রে এত দিন সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সেটিই বহাল রাখা হয়েছে। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে এ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, সেটিও ঠিক আছে।
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা আগামী ছয় মাসের জন্য ঠিক রইল। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, তা–ও ঠিক আছে।
এ ছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বিপদের সময় সঞ্চয়পত্র ভেঙে তা সামাল দেন। আবার প্রতি মাসের সংসার খরচের একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে আসে।
জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। যদিও কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা ৮-৯ শতাংশের ঘরেই আছে।