আবদুল্লাহ আল মামুন একজন শিক্ষক। তিনি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তাঁর একজন শারীরিকভাবে অসমর্থ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে। তাঁর স্ত্রী করদাতা নন।
আবদুল্লাহ আল মামুন এ বছর আয়কর রিটার্ন দেবেন কীভাবে, তা জানা যাক। মনে রাখতে হবে, এ বছরের রিটার্নে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে কর দিতে হবে।
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে আবদুল্লাহ আল মামুনের আয় ছিল এমন—মাসিক মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা; বাড়িভাড়া ১৫ হাজার টাকা; চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা; উৎসব বোনাস দুটি মূল বেতনের সমান।
এ ছাড়া আবদুল্লাহ আল মামুন টিউশনি থেকেও উপার্জন করে থাকেন। তিনি মাসে মোট ছয়টি ব্যাচে ছাত্র পড়ান। প্রতি ব্যাচে ছাত্রসংখ্যা ৬। প্রতি ছাত্র থেকে তিনি ৪০০০ টাকা মাসিক সম্মানী নেন। তিনি নিজের বাসায় ছাত্র পড়ান।
তিনি আয়বর্ষে ২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। গত ৩০ জুন আবদুল্লাহ আল মামুনের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি টাকা। তাই সারচার্জ আরোপ হবে না।
২০২৫-২৬ করবর্ষে করদাতার মোট আয় হলো—
১. চাকরি থেকে আয় ৩,৬০,০০০ টাকা (৩০,০০০ টাকা মূল বেতনে ১২ মাসের মোট আয়)
২. বাড়িভাড়া ১,৮০,০০০ টাকা (বাড়িভাড়া ১৫,০০০ টাকার ১২ মাসের মোট আয়)
৩. চিকিৎসা ভাতা ১২,০০০ টাকা (প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা ধরে ১২ মাসের হিসাব)
৪. উৎসব বোনাস ৬০,০০০ টাকা (বছরের মূল বেতনের সমান দুটি উৎসব বোনাস)
আবদুল্লাহ আল মামুনের চাকরি থেকে মোট আয় হয়েছে ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা।
চাকরি থেকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা ৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি কম। সেই হিসাবে করের হিসাব করতে আবদুল্লাহ আল মামুনের মোট আয় থেকে বাদ যাবে ২ লাখ ৪ হাজার টাকা। কর পরিশোধের জন্য চাকরি খাতের আয় হিসেবে বিবেচনা করা হবে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা।
এ ছাড়া আবদুল্লাহ আল মামুনের টিউশনি থেকেও আয় আছে। প্রতি ব্যাচে ৬ জন করে ৬টি ব্যাচ আছে। প্রত্যক ছাত্রের কাছ থেকে মাসে ৪ হাজার টাকা সম্মানী নেন। তাই প্রতি মাসে আয় আসে ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। বছরে আসে ১৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
করের হিসাব করতে আবদুল্লাহ আল মামুনের চাকরি ও টিউশনি থেকে মোট আয় হলো (৪,০৮,০০০ টাকা+ ১৭,২৮,০০০ টাকা) বা ২১,৩৬,০০০ টাকা।
কর কত
প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা হিসেবে করমুক্ত আয় সীমা (৩,৫০,০০০ টাকা + ৫০,০০০ টাকা) বা ৪,০০,০০০ টাকা।
আবদুল্লাহ আল মামুনের আয় ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
১. প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর কর নেই।
২. পরবর্তী ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ৫% হিসাবে ৫ হাজার টাকা।
৩. পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ১০% হিসাবে ৪০ হাজার টাকা।
৪. পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১৫% হিসাবে ৭৫ হাজার টাকা
৫. পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২০% হিসাবে ১ লাখ টাকা
৬. অবশিষ্ট টাকার (২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা) ওপর ২৫% হিসাবে ৫৯ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুনের করের পরিমাণ হলো ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।
গত আয়বর্ষে ২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তাই তিনি কর রেয়াত বা ছাড় পাবেন।
বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত নেওয়ার নিয়ম হলো মোট আয়ের দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ; মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ কিংবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা—এই তিনটির মধ্যে যেটি কম হবে, তা–ই রেয়াতের পরিমাণ।
আবদুল্লাহ আল মামুনের মোট আয়ের (২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা) দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ হলো ৬৪ হাজার ৮০ টাকা; মোট অনুমোদনযোগ্য হলো (২ লাখ টাকার ১৫ শতাংশ) ৩০ হাজার টাকা। বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা। এই তিনটির মধ্যে সবচেয়ে কম হলো ৩০ হাজার ২১০ টাকা। এটিই হলো আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রাপ্য কর রেয়াতের পরিমাণ।
শেষ পর্যন্ত আবদুল্লাহ আল মামুনকে কর দিতে হবে (২,৭৯,০০০ টাকা-৩০,০০০ টাকা) বা ২,৪৯,০০০ টাকা।