আইডিএলসি
আইডিএলসি

আইডিএলসির এসএমই উৎসব ঋণ: জামানত ছাড়া ৩৫ লাখ টাকা পাওয়া যাবে

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) একটি বড় অংশের ব্যবসা নির্ভর করে বছরের নির্দিষ্ট মৌসুমের ওপর। বিশেষ করে পণ্য হিসেবে মৌসুমের ওপর বেশি নির্ভর করে পোশাক। ঈদ, পয়লা বৈশাখ বা শীতকাল—এই তিন মৌসুমে পোশাকের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ফলে এ সময় কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদনের বড় অঙ্কের পুঁজির প্রয়োজন হয়।

মৌসুম শুরু আগে হঠাৎ করে বড় অঙ্কের পুঁজির জোগান পেতে হিমশিম খান উদ্যোক্তারা। কারণ, বেশির ভাগ উদ্যোক্তা মৌসুম শেষে পণ্য বিক্রি করে পুরো টাকা হাতে পান। ফলে ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা একজন উদ্যোক্তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

এমন এসএমই উদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণসুবিধা আছে দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) আইডিএলসির। উদ্যোক্তারা চান মৌসুম শেষে পণ্য বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার সুবিধা। এই বাস্তবতা বিবেচনায় ২০০৭ সাল থেকে এই ঋণসেবা চালু আছে। ‘এসএমই উৎসব’ নামে এই মৌসুমি ঋণসেবার মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা চাইলে মৌসুম শেষে পণ্য বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

মৌসুমি ঋণ কী

মৌসুমি ঋণে সাধারণ মাসিক কিস্তি হিসেবে ঋণ পরিশোধ করতে হয় না। এই এসএমই উৎসব ঋণের সুদের হার সাধারণত ১৩-১৫ শতাংশ হবে। তবে নারী গ্রাহকেরা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার মাধ্যমে এই ঋণসুবিধা ৫ শতাংশ সুদ হারে নিতে পারবেন।

এই সেবায় একজন গ্রাহক যদি ছয় মাস মেয়াদে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেন, তাহলে প্রতি মাসে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হবে। শেষ মাসে এককালীন মূলধন পরিশোধ করেন। ফলে ব্যবসায় এই পুঁজি খাটিয়ে লাভ করার সময় পাওয়া যায়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইডিএলসির শাখা কার্যালয়ের আশপাশে পরিচালিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলো এ সুবিধার আওতায় আছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্য, উৎপাদন, সেবা, কৃষি ও অকৃষি খাতের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্পের উদ্যোক্তারাও ঋণসুবিধা পাচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব উদ্যোক্তার ব্যবসায় মৌসুমভেদে চাহিদা ও নগদ প্রবাহে বড় ধরনের ওঠানামা থাকে, তাঁদের কথা বিবেচনায় সেবা চালু করা হয়েছে।

মৌসুমি ঋণে কত টাকা পাওয়া যাবে

আইডিএলসির এসএমই উৎসব সেবায় ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১২ মাস। এই উদ্যোগে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এর মধ্যে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই ঋণসুবিধা পাওয়া যাবে।

এই সেবার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা চাইলে মাসিক সমান কিস্তিতে (ইএমআই) ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। আবার ব্যবসার ধরন ও মৌসুমি চক্র অনুযায়ী মৌসুমভিত্তিক পরিশোধের সুযোগও থাকছে।

আইডিএলসির এসএমই বিভাগের প্রধান আদনান রশীদ বলেন, দেশে সাধারণত ঈদ ও পূজার মতো বড় উৎসবে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তখন গ্রাহকেরা এই ঋণের প্রতি অধিক আগ্রহী হন। এ ছাড়া রপ্তানিমুখী ব্যবসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উৎসব (যেমন বড়দিন) উপলক্ষে কাঁচামাল ক্রয় ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফসল তোলার পর বৃহৎ পরিমাণ পণ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং পর্যটন খাতের মৌসুমে এ ধরনের মৌসুমি ঋণের বেশি চাহিদা থাকে।

কী কী লাগে

ঋণ আবেদনের জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে উদ্যোক্তাদের। এর মধ্যে রয়েছে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন সনদ এবং কর প্রদানের সনদ।

এ ছাড়া ব্যবসার গত ১২ মাসের বিক্রয় প্রতিবেদন, ভাড়ার রসিদ ও ব্যাংক হিসাবের বিবরণীও জমা দিতে হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবসার অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে।

আইডিএলসির এমএমই বিভাগের প্রধান আদনান রশীদ বলেন, সব মিলিয়ে এই ঋণসুবিধা এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯৯০ গ্রাহককে এই ঋণসুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এই সেবার আওতায় এখন পর্যন্ত ৪৩০ কোটি টাকার ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছে।