আয়কর রিটার্ন
আয়কর রিটার্ন

আয়কর রিটার্নে যে ভুল বেশি হয়, ভুলগুলো কী কী

এ বছর সাড়ে ৪২ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন। এবার অফলাইনে বা সনাতনি পদ্ধতিতে রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সময় অনেক করদাতা ভুল করেছেন, যা ভবিষ্যতে সমস্যায় ফেলতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। অনেকে শূন্য রিটার্ন জমা দেন, এটিও ঠিক নয়। করযোগ্য আয় থাকলে অবশ্যই এর ওপর কর দিতে হবে।

বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। এর মধ্যে সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা রিটার্ন দিয়েছেন। প্রায় ৮৫ লাখ টিআইএনধারী রিটার্ন দেননি।

এবার দেখা যাক, করদাতারা সাধারণত কী ধরনের ভুল বেশি করেন

১. অতিরঞ্জিতভাবে সোনা দেখানো। যেমন অনেকেই ৪০–৫০ ভরি সোনা দেখান। বর্তমান বাজারদরে এই বিপুল পরিমাণ সোনার গয়নার দাম কোটি টাকার বেশি। কিন্তু করদাতার আয় ও সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে তা সংগতিপূর্ণ নয়।

২. রিটার্নে মাত্রাতিরিক্তি নগদ টাকা দেখান অনেকে। এতেও আয়ের সঙ্গে সংগতি না থাকলে এই নগদ টাকা নিয়ে বিপাকে পড়বেন।

৩. বিভিন্ন জায়গায় ছোটখাটো সঞ্চয় দেখানো হয় না। আবার টাকা ধার নেওয়া ও দেওয়া দেখান না অনেকে।

৪. উপহারসহ অন্যান্য সামগ্রী আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করা হয় না।

৫. বছর শেষে যে নিট সম্পদ দাঁড়ায়, তা ভুলভাবে রিটার্নে উপস্থাপন করা হয়। অনেকে কম দেখান।

৬. সিটি কর্পোরেশনসহ অভিজাত এলাকায় জায়গা থাকলে দেখানো হয় না।

৭. বিনিয়োগ করে কর রেয়াত নেওয়ার জন্য ভুল জায়গায় বিনিয়োগ করার তথ্য দেন অনেকে।

৮. আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি দেখানো হয়।

৯. বিবাহিত ও সংসারের কর্মক্ষম ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও খরচ একদমই না দেখানো।

১০. এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করেও তা আয়কর রিটার্নে না দেখানো।

মনে রাখতে হবে

আপনি প্রথমবার আয়কর রিটার্নে নগদ টাকার পাশাপাশি যত সম্পদ দেখাবেন, এসব সম্পদ অর্জনের ব্যাখ্যা যেন থাকে। আয়ের উৎসের ব্যাখ্যাও দিতে হবে। এসব সম্পদের সপক্ষে যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন।