সৈয়দা মাসুমপা নাওয়ার ফাহিয়া
সৈয়দা মাসুমপা নাওয়ার ফাহিয়া

আসছে বাজেট ২০২৬-২৭

শুধু বরাদ্দ নয়, শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যবস্থা চাই

বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। এই জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে না পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। তাই বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বাজেটে সবার আগে গুরুত্ব পাওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এখন সাধারণ মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরাও এর বাইরে নয়। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা থেকে ঢাকায় পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, শিক্ষাসামগ্রী—সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেক পরিবারের জন্য সন্তানকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো অবশ্যই ইতিবাচক। তবে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, সেই অর্থ কীভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালাইটিকস, প্রোগ্রামিং ও ডিজিটাল দক্ষতা এখন বৈশ্বিক শ্রমবাজারের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা; কিন্তু বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী এখনো এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না। বাজেটে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি থাকবে বলে আমার প্রত্যাশা। একই সঙ্গে বিদেশি ভাষাশিক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। গবেষণা খাতেও বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থী গবেষণায় আগ্রহী হলেও প্রয়োজনীয় তথ্য, ডেটাবেস ও গবেষণা-সুবিধার অভাবে পিছিয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসুবিধা, স্বাস্থ্য কার্ড বা সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবার ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।

সৈয়দা মাসুমপা নাওয়ার ফাহিয়া
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়