বাজারে এখন মোটামুটি মানের প্রতিটি লেবুর দাম কমপক্ষে ২০ টাকা। আর আকারে বড় একটি লেবু কিনতে হলে দাম পড়বে ৪০ টাকা। লেবু যেন ফলে পরিণত হয়েছে। আরও বলা যায়, বড় আকারের ভালো মানের একটি লেবুর দাম এখন এক হালি ডিমের দামের সমান। ৪০ টাকায় এক হালি ডিম অহরহই পাওয়া যাচ্ছে।
আজ রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এই প্রতিবেদক লেবুর দরের এই চিত্র পেয়েছেন।
অন্যদিকে রোজার প্রথম দিনেই শষা ও বেগুনের দামও চোখ রাঙাচ্ছে। শসা কিনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকায়। কমেনি বেগুনের দামও, বরং বেড়েছে। এক কেজি বেগুন কিনতে ক্রেতাকে ১০০ থেকে ১২০ টাকার খরচ করতে হচ্ছে। তবে বাজারভেদে কোথাও এসব পণ্যে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার রমজান মাসের প্রথম দিন। তাই স্বাভাবিক দিনের চেয়ে বাজারে ক্রেতার ভিড় ছিল। ক্রেতা–বিক্রেতার হাঁকডাকও বেশি।
গতকাল বাজারে বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ ও খেজুরের দাম যা ছিল, তা থেকে কমতে দেখা যায়নি। বরং কিছু বাজারে দাম আরও বাড়তে দেখা গিয়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কিছুটা কমেছে।
আজ বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে যা দেখা গেল
রাজধানীর কৃষি মার্কেটে বড় আকার ও ভালো মানের লেবু ১০০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় বেশির ভাগ ক্রেতা দাম শোনার পর মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ আবার একটু ছোট আকারের লেবু কিনছেন ৮০ টাকা হালি দরে। আবার অনেকে এক–দুটি লেবু কিনেই বাড়ি ফিরছেন।
কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে প্রতিটি লেবু পাইকারি দামে ২৭ টাকা ৫০ পয়সা দিয়ে কিনেছি। এখন হালি বিক্রি করছি ১৪০ টাকা। সন্ধ্যায় আবার আরও কমে বিক্রি করতে হয়। তাই এখন একটু বেশি দরে বিক্রি করছি।’
এই তিন বাজারে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোজার আগে ও পরে তিন থেকে চার দিন বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যায়। অনেকে আবার কিছু পণ্য বেশি পরিমাণে কেনার জন্য বাজারে আসেন। তাই বাজারেও সেসব পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। আর তাই দামও বেড়ে যায়। এই সুযোগে আবার কোনো অসাধু বিক্রেতা বাড়তি দামেও পণ্য বিক্রি করেন।
মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে লেবু ও শসা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। পাশাপাশি দুই সবজির দোকানের একটিতে শসা কেজিপ্রতি দাম চাওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা ও পাশের দোকানে লেবুর দামও হালিতে ২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
এই দুই বিক্রেতাকে দাম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা জানান, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সঙ্গে পরিবহন খরচ, দোকানভাড়া ও লাভ রেখে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এ সময় বাজার করতে আসা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, ‘রোজা এলে বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এটি পুরোনো রীতি। এবারও ভিন্ন কিছু হচ্ছে না। শসার দাম কেজি ১৫০ টাকা চাচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও ৮০ টাকা কেজিতে কিনেছি। সে সময় এক ডজন লেবু কিনেছি ১২০ টাকা দিয়ে। আর এখন এক হালি লেবুর দাম ১২০ টাকা।’
অন্যান্য সবজি বিক্রেতারা বলেন, মূলত সারা বছর লেবু উৎপাদন হয়। তবে এ সময়ে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে লেবুর ফুল আসে। আর জুলাই থেকে আগস্ট মাসে লেবু আহরণ করা হয়। তবে এখন বিভিন্ন জাতের লেবু বারো মাস চাষ হয়। আবার রোজার কয়েক দিন গেলেই মানুষের চাহিদা কমে যাবে। তখন দামও কমে যাবে।
এ ছাড়া টমেটো ও গাজরের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। কাঁচা মরিচের মতো নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আমিষের চাহিদা মেটায় ব্রয়লার মুরগি। এই ব্রয়লার মুরগির দামও গতকাল ২০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। তবে সপ্তাহ দুই আগে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছিল ২০০-২২০ টাকায়। আজ কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি মুরগির দাম কমেনি। আজও প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ বলেন, রোজার শুরুতে অনেকে শখ করে রোজার পণ্য বেশি পরিমাণে কেনেন। তাই চাহিদার সঙ্গে দামও বেড়ে যায়। তবে রোজা আরও এগোলে চাহিদা কমে যাবে, তখন দামও কমে যাবে।