একসময় বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা বেশ সহজভাবেই ব্যাখ্যা করা যেত। সেটা হলো, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি হতো আর ডলার ফিরে যেত ওয়াশিংটনে।
১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে গড়ে ওঠা এ ব্যবস্থার কল্যাণে ডলার বিশ্বের অপরিহার্য মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়—হাইড্রোকার্বন ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ড পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তথাকথিত ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেসের।
বছরের পর বছর ধরে এই কাঠামো বিস্ময়কর স্থিতিশীলতা নিয়ে টিকে ছিল। তেলের দাম নির্ধারিত হতো ডলারে, লেনদেন হতো ডলারে, সেই ডলারই আবার পুনর্ব্যবহৃত হতো। এ ব্যবস্থা যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি তা নয়, অনেক সময় শক্ত চ্যালেঞ্জ এসেছে, কিন্তু বাস্তব তেমন একটা প্রভাব পড়েনি। ডি-ডলারাইজেশন যতটা না ছিল বাস্তবতা, তার চেয়ে বেশি অভিপ্রায় বা আকাঙ্ক্ষার বিষয়।
কিন্তু গত দুই মাসের ঘটনাপ্রবাহে সেই ভারসাম্য বদলে গেছে, এমনটাই মনে হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি এই পেট্রোডলার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
জ্বালানিবাজারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ভূগোল দীর্ঘদিন ধরেই একধরনের প্রতিবন্ধকতা ছিল; কিন্তু এখন তা যেন নতুন রূপ নিয়েছে। আর্থিক বাজারের ক্ষেত্রেও ভূগোল একধরনের প্রতিবন্ধকতা বা চাপ হয়ে উঠেছে।
মার্চের শুরুতেই ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর আংশিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। শত্রু দেশের জাহাজ নয়, শুধু এমন জাহাজগুলোই তারা চলাচলের অনুমতি দেয়। তবে এই প্রবেশাধিকারের জন্য ‘অশত্রু দেশগুলোকে’ খরচ করতে হয়েছে। প্রতি যাত্রায় প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ট্রানজিট ফি দিয়ে ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তাসহায়তা দিয়ে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। কিছু ক্ষেত্রে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে। এই অর্থ আদায় করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
এ ব্যবস্থার ধরন দ্রুতই বদলাতে থাকে। দেখা গেল, মার্চের শেষ নাগাদ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের জন্য যে অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে, তা ডলারবহির্ভূত ভিন্ন মুদ্রায় পরিশোধের ব্যবস্থা নেয় ইরান। বিশেষ করে যেসব কার্গো চীনা মুদ্রা ইউয়ানে এই মাশুল পরিশোধ করেছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধের খবরও পাওয়া যায়।
বাস্তবতা হলো, রাশিয়ার তেল কেনার জন্য এশিয়ার পরিশোধনাগারগুলো আগে থেকেই বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার শুরু করেছে, এ ঘটনার পর তা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকি প্রিমিয়াম যুক্ত হয়। জাহাজ চলাচল ও বিমার খরচ বেড়ে যায়।
এপ্রিলের শুরুতে এ পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিছু জাহাজ ইউয়ান বা ডিজিটাল মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সুযোগ পায়। অন্যদিকে কিছু জাহাজ ডলারভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই নিষেধাজ্ঞার কারণে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে বৈশ্বিক তেলবাজার ধীরে ধীরে ভূরাজনৈতিক ও আর্থিক বিভাজনের ভিত্তিতে ভাগ হতে শুরু করে।
জিওপলিটিক্যাল বিজনেস ইনকের প্রতিষ্ঠাতা আবিশুর প্রকাশ অ্যারাবিয়ান বিজনেসকে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কার্যত ভাঙন দেখা যাচ্ছে। ডি-ডলারাইজেশনের ধারণা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, বিকল্প বাণিজ্যব্যবস্থার মাধ্যমে ভূগোল একধরনের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। এ পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যে ঠিক হয়েছে, কে তেল পরিবহন করতে পারবে, কীভাবে এর দাম নির্ধারিত হবে এবং কোন মুদ্রায় লেনদেন হবে। অর্থাৎ তেল কেনাবেচার সঙ্গে ডলার ব্যবহারের যে আবশ্যিক বন্ধন ছিল, তা ভেঙে পড়ে।
পেট্রোডলার ব্যবস্থার উত্থান ১৯৭০-এর দশকে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের ওতপ্রোত সম্পর্ক আছে। এই যুদ্ধ ছিল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিসর ও সিরিয়ার নেতৃত্বে আরব রাষ্ট্রগুলোর সামরিক অভিযান। ১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৫ অক্টোবর শেষ হয় এই যুদ্ধ।
এই যুদ্ধে সৌদি আরবসহ অধিকাংশ তেলসমৃদ্ধ আরব দেশ মিসর ও সিরিয়াকে সমর্থন দেয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ায়। এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব তেল উৎপাদনকারী দেশ পশ্চিমাদের কাছে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এই তেল অবরোধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতেতি গভীর প্রভাব পড়ে। কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ দশমিক ৯০ ডলার থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ৬৫ ডলারে পৌঁছে যায়। এতে পশ্চিমা দেশগুলো উপলব্ধি করে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল শুধু বাণিজ্যিক পণ্য নয়; বরং শক্তিশালী ভূরাজনৈতিক হাতিয়ারও।
অন্যদিকে সৌদি আরবসহ তেল রপ্তানিকারী দেশগুলো তেল বিক্রি থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার আয় করতে থাকে। তখন প্রশ্ন ওঠে, এই বিপুল ডলার কোথায় বিনিয়োগ হবে এবং কীভাবে ব্যবহৃত হবে। এখানেই আসে ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার বিষয়টি।
১৯৭৪ সালের ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম সায়মন সৌদি আরব সফর করেন। তেল ও বন্ড বাজারে তাঁর ছিল গভীর অভিজ্ঞতা। তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে গোপন সমঝোতা গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে যা ‘পেট্রোডলার চুক্তি’ নামে পরিচিতি পায়। যদিও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি বিবৃতি বা পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশিত হয়নি, ১৯৭৪ সালে ‘জয়েন্ট কমিশন অন ইকোনমিক কো-অপারেশন’-এর মাধ্যমে দুই দেশের যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা গড়ে ওঠে, সেখান থেকেই এ ব্যবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এ প্রক্রিয়ায় সে সময়ের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি গোপনে মধ্যপ্রাচ্য সফরও করেছিলেন বলে জানা যায়।
সেই ১৯৭০-এর দশকে গড়ে ওঠা ব্যবস্থায় এখন চিড় দেখা যাচ্ছে। সংবাদে বলা হয়েছে, তেলবাজারের কাঠামোয় এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরবরাহ ও চাহিদার পাশাপাশি এখন জোটভিত্তিক অবস্থানও তেল প্রাপ্তি ও দামের নির্ধারক হয়ে উঠছে।
প্রকাশ বলেন, এতে ডি-ডলারাইজেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং ব্রিকস জোট নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংঘাত যত বেড়েছে, ব্রিকস সদস্যরা তত বেশি সুবিধা পেয়েছে, যেমন হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার, ব্রিকস-বহির্ভূত দেশগুলোর যা নেই।
এই জোটের সদস্য হওয়া এখন প্রত্যক্ষভাবে বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহন করছে। এই পথে প্রবেশাধিকার, লেনদেনে নমনীয়তা বা নিষেধাজ্ঞা থেকে সুরক্ষা—সবই বাস্তব সুবিধা হয়ে উঠছে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, এই পরিবর্তনের বিষয়টি দামের তারতম্য ও সরবরাহব্যবস্থায় প্রতিফলিত হচ্ছে। এফএক্সইএমের মার্কেট রিসার্চ ও ফিনটেক স্ট্র্যাটেজি ম্যানেজার আবদেল আজিজ আলবোগদাদি বলেন, বাজারে এখন একাধিক ধারা; বাজার আর একমুখী নয়।
আবদেল আজিজ আরও বলেন, তেলবাজারে সমান্তরাল ধারা তৈরি হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল ডলার ভিন্ন অন্য মুদ্রায় লেনদেন, পরিবহন ও মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে। এই সমান্তরাল বাজারে এখন দামের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে আর বিষয়টি কেবল সেই দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত, যারা বর্তমান নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাহাজ জব্দ করা ও অবরোধ পরিস্থিতির কারণে তেলবাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে শুধু দাম নয়, মুদ্রা, হরমুজে প্রবেশাধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থানও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর অর্থ এই নয় যে ডলার অনেকটা শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাস্তবতা হলো, বিকল্প পথ ও মুদ্রার উত্থান সত্ত্বেও ডলার এখনো বৈশ্বিক ব্যবস্থায় শক্ত অবস্থানেই আছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
প্রকাশ বলেন, ডলারের বৈশ্বিক চাহিদা আছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ও বাজারের অস্থিরতার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে ডলারের কদর বেড়েছে। বাজারে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ডলারভিত্তিক সম্পদের বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন। ট্রেজারি বন্ডের চাহিদা বেড়েছে। ফলে রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে।
অনেক বিশ্লেষক অবশ্য বৃহত্তর প্রবণতা সম্পর্কে সতর্ক অবস্থানে। তাঁদের ভাষ্য, অনেক বছর ধরে বহুমুখী আর্থিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চলছে, সব দেশই ডলারনির্ভরতা কমাতে চায়। বর্তমান সংকটে সেই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে, যদিও যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এই পুনর্গঠন চলছে, তা মোটেও শক্তিশালী নয়।
সংবাদে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েক বছরে ডলারে লেনদেন বেড়েছে, তবে পরিমাণগত দিক থেকে তা সামান্য, উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু নয়। এখনো ডলার বিশ্বের প্রধান লেনদেনব্যবস্থা ও মুদ্রা।
ডলারের কাঠামোগত শক্তি এখনো অটুট। এর গভীরতা, তারল্য ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার বিকল্প সহজে তৈরি করা সম্ভব নয়। এমনকি ব্রিকসের যৌথ মুদ্রার প্রস্তাবও বড় বাধার মুখে। এর জন্য প্রয়োজন গভীর অর্থনৈতিক একীভবন, বিষয়টি এখনো সুদূরপরাহত।
তবু চাপের জায়গাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ডলারবহির্ভূত প্রতিটি লেনদেন এবং বিকল্প মুদ্রায় সম্পাদিত প্রতিটি চুক্তি ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থার কাঠামো বদলে দিচ্ছে।
আলবোগদাদি বলেন, এই সংকটের কারণে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে পেট্রোডলার ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে। যখনই কোনো বিঘ্ন ঘটছে, তখনই বাজার ডলারের বাইরে লেনদেনে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সমান্তরাল অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে এবং মার্কিনকেন্দ্রিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমছে।
বাস্তবতা হলো, তেল খাতের পরিচালনব্যবস্থায়ও এই চাপ ছড়িয়ে পড়ছে। ২৮ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দেয়, তারা ওপেক ত্যাগ করবে। ১ মে থেকে তা কার্যকর হয়েছে। উৎপাদন সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের প্রতিফলন হচ্ছে এ সিদ্ধান্ত।
পেট্রোডলারের ক্ষেত্রে এর সরাসরি প্রভাব না থাকলেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। উপসাগরীয় দেশগুলো এখনো ডলারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, তবে অধিকতর স্বাধীনতার অর্থ হলো, বাণিজ্য ও লেনদেনে আরও বৈচিত্র্যের সুযোগ।
প্রকাশ বলেন, মূল প্রশ্ন হলো, দেশগুলো কোন দিকে ঝুঁকবে। ওপেক-পরবর্তী সময়ে ইউএই কি ডলারের সঙ্গেই থাকবে, বিশেষ করে যদি তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়ের চুক্তি করে, অন্যদিকে কাতার কি ইউয়ান বা রুপির দিকে ঝুঁকবে—এসব প্রশ্ন থেকেই যায়। এসব পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ বিষয়, তবে তার গতিমুখ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বৈশ্বিক জ্বালানিবাজার এখনো ডলারকেন্দ্রিক। এই বাস্তবতায় পেট্রোডলার ব্যবস্থা এখনই বিলুপ্ত হচ্ছে না, তা স্পষ্ট। তবে এ ব্যবস্থা এখন আর অতটা নিশ্ছিদ্র নয়।
তেল আর এখন একক চ্যানেলে প্রবাহিত হচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে এর দাম ভিন্নভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, লেনদেন হচ্ছে ভিন্ন মুদ্রায়, পরিবহন হচ্ছে বিকল্প পথে। এসবের মধ্য দিয়ে যে রাতারাতি ডলারের বিকল্প তৈরি হচ্ছে, বিষয়টি মোটেও তা নয়, কিন্তু বিকল্প যে আছে, তা নিশ্চিত হচ্ছে।
ডলারের বাইরে যত লেনদেন হচ্ছে, সেই লেনদেনের মধ্য দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা আরও পরিচিতি পাচ্ছে। প্রতিটি সংকটে তা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
পরিবর্তন আসতে সময় লাগে সত্য, কিন্তু তা শুরু হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় কথা, গত কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম পেট্রোডলার ব্যবস্থা আগের মতো স্থিতিশীল মনে হচ্ছে না।