
বিশ্বে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে। ধনীদের আয় বাড়ছে। অন্যদিকে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাপে রয়েছেন। ধনী-গরিবের মধ্যকার এই ব্যবধান কমানো না গেলে ‘বিদ্রোহ’ ও ‘নাগরিক বিপর্যয়ের’ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রগতিশীল বিশেষজ্ঞরা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের
সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নিয়ে অতিধনী ও তাঁদের উপদেষ্টাদের সতর্ক করে দিয়ে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্য লন্ডনের একটি অভিজাত হোটেলে বিনিয়োগ সম্মেলনটির আয়োজন করে স্পিয়ারস ম্যাগাজিন।
সম্মেলনে প্যাট্রিয়টিক মিলিয়নিয়ার ইউকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জুলিয়া ডেভিস বলেন, বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ হতে পারে, যদি না ধনীরা দরিদ্রদের কিছু সহযোগিতা না করেন। প্রত্যেকেই বলতে পারেন যে এটি অন্য কারও দায়িত্ব। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সমাজের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরাই এ বিষয়ে কার্যকর কিছু করার সামর্থ্য রাখেন।
ধনী ব্যক্তিদের জনহিতকর কাজগুলো নিয়ে দুর্নাম রয়েছে। কারণ, তাঁদের এসব জনহিতকর কাজ ভালোভাবে প্রকৃত সমস্যার সমাধানে বাস্তবায়ন করা হয় না।—ক্লেয়ার উডক্রাফট, ফেলো, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক ফিলানথ্রপি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
বিনিয়োগ সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ৫০০ বিলিয়নিয়ার বা অতিধনী পরিবারের সদস্য ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশে জুলিয়া ডেভিস বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত সমাজের সবচেয়ে ধনীরা বর্তমান সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার গতি কমানোর চেষ্টা করছেন। তাঁরা হয়তো মনে করেছেন যে এতে তাঁদের কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি না যে তাঁরা সমস্যামুক্ত রয়েছেন। আর আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি যে তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মকে এই সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’
সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সেন্ট জেমস প্লেসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা লয়ডন ধনীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সবারই ভূমিকা রয়েছে। শুধু যে পরবর্তী প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য এটা করতে হবে এমন নয়; বর্তমান প্রজন্মের জন্যও আমাদের কাজ করতে হবে।’
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক ফিলানথ্রপির ফেলো ক্লেয়ার উডক্রাফট বলেন, ‘ধনী ব্যক্তিদের জনহিতকর কাজগুলো নিয়ে দুর্নাম রয়েছে। কারণ, তাঁদের এসব জনহিতকর কাজ ভালোভাবে প্রকৃত সমস্যার সমাধানে বাস্তবায়ন করা হয় না।’
জনহিতকর কাজে অর্থ বিনিয়োগের জন্য একটি সুস্পষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেন ক্লেয়ার উডক্রাফট। তিনি বলেন, জনহিতকর কাজের মাধ্যমে ধনীরা সমাজে সর্বাধিক প্রভাব ফেলতে পারেন। তাই এ কাজের জন্য একটি সুস্পষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।