বিশ্ববাজারে সোনার দাম আজও কমছে। মার্কিন বাজারের এক নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে সোমবার সোনার দামে নিম্নমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংবাদে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত পরবর্তী ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নীতির বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।
বিষয়টি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সিএমই এক্সচেঞ্জে সোনাসহ মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে মার্জিন (জামানত) বাড়ানো হয়েছে। মার্জিন বাড়লে ব্যবসায়ীদের বেশি অর্থ আটকে রাখতে হয়। ফলে অনেকেই সোনা বিক্রি করে দেন—এতে দাম কমে। সিএমইতে মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে মার্জিন চাহিদা বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
বিনিয়োগকারীরা দেখছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ সুদহার কমানোর বিষয়ে কী অবস্থান নেন। সুদহার কমার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হলে সোনার মতো সম্পদের প্রতি আগ্রহ সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। সে কারণেও দামের এই পতন।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৭০২ দশমিক ৯৫ ডলারে। এর আগে অধিবেশনের শুরুতে দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। বৃহস্পতিবার সোনার দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছেছিল।
এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার আগাম দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭২৯ দশমিক ২০ ডলারে নেমে এসেছে।
কেসিএম চিফ ট্রেড অ্যানালিস্ট টিম ওয়াটারার বলেন, ওয়ার্শকে মনোনয়নের খবরটি হয়তো প্রাথমিক উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছে, কিন্তু মূল্যবান ধাতুর এত বড় দরপতনের যৌক্তিকতা সেখানে নেই। বাধ্যতামূলক বিক্রি ও মার্জিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে একধরনের ধারাবাহিক চাপ তৈরি হয়েছে।’
শনিবার সিএমই গ্রুপ তাদের ধাতব ফিউচারের মার্জিন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এই পরিবর্তনগুলো সোমবার বাজার বন্ধের পর কার্যকর হওয়ার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান পণ্যবাজার বা ফিউচার্স এক্সচেঞ্জে এক আউন্স সোনা ফিউচারের মার্জিন ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমেক্সে ৫ হাজার আউন্স রুপা ফিউচারের (এসআই) মার্জিন ১১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম ফিউচারেও মার্জিন চাহিদা বাড়ানো হবে।
মার্জিনের চাহিদা বাড়ানো সাধারণত সংশ্লিষ্ট আগাম চুক্তিগুলোর জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। বেশি মূলধন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হলে বাজারে জল্পনাভিত্তিক বিনিয়োগ কমে যায়।
আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারভিত্তিক ট্রেডিং ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেসিএমের বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ওয়ার্শ দায়িত্ব নেওয়ার পর সুদহার কমাতেই পারেন, তবে বাজার আগে থেকে যে ধারণা করেছিল, তিনি সুদহার অতটা বেশি হারে কমাবেন না।
টিম আরও বলেন, ওয়ার্শের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণত ডলারের পক্ষে সহায়ক এবং পরোক্ষভাবে সোনার জন্য নেতিবাচক। তিনি মূল্যস্ফীতিতে জোর দেন। সেই সঙ্গে কোয়ান্টিটেটিভ ইজিং ও ফেডের অতিরিক্ত বড় ব্যালান্স শিট নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক।
ফেডের প্রধান হিসেবে ট্রাম্পের পছন্দের তালিকায় থাকা ওয়ার্শ অনেক মানদণ্ড পূরণ করলেও তিনি কত দ্রুত ও বেশি হারে সুদহার কমাবেন এবং ফেডে তাঁর কথিত পরিবর্তন কতটা আগ্রাসী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিনিয়োগকারীরা এখনো আশা করছেন, ২০২৬ সালে অন্তত দুবার সুদহার কমানো হবে। এর সঙ্গে সোনার সম্পর্ক হলো, সোনায় সুদ পাওয়া যায় না ঠিক, সে কারণে সুদহার সাধারণত কম থাকলে সোনার কাটতি বাড়ে।
এদিকে স্পট বাজারে রুপার দাম ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮০ দশমিক ২৮ ডলারে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার রুপা সর্বোচ্চ ১২১ ডলার ৬৪ সেন্টের রেকর্ড গড়েছিল। এরপর শুক্রবার প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় রুপা।
স্পট প্লাটিনামের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৭৪ ডলার ৭০ সেন্টে নেমে এসেছে। ২৬ জানুয়ারি এটি রেকর্ড ২ হাজার ৯১৮ ডলার ৮০ সেন্টে পৌঁছেছিল। একই সময়ে প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজারে ৬৪২ ডলার ৩৫ সেন্ট।