বিশ্ব বাজারে আবার বেড়েছে তেলের দাম।
বিশ্ব বাজারে আবার বেড়েছে তেলের দাম।

বেড়েছে তেলের দাম, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা স্থগিতের জের

এশিয়ার বাজারে আজ সোমবার সকালে তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা আবারও স্থগিত হয়ে গেছে—এই পরিস্থিতিতে আজ আবার তেলের দাম বেড়েছে।

তেলের বাজারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭০ ডলার হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৬ দশমিক ৪০ ডলার। খবর বিবিসির

এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করেছে ওয়াশিংটন। এরপরই বাজারে তার প্রভাব দেখা গেল।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান জাহাজে হামলার হুমকি দিলে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিশ্বে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, নিরাপদে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করাই তাঁদের অগ্রাধিকার। এই বিষয়টি ইরানের প্রতিবেশী দেশ ও বিশ্বসম্প্রদায়—সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, প্রতিনিধিদল পাঠাতে ‘অতিরিক্ত সময় নষ্ট’ হচ্ছে এবং কাজের চাপও অতিরিক্ত। তিনি আরও দাবি করেন, তেহরানের নেতৃত্বে ‘তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি’ আছে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘কে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেটা তারা নিজেরাও জানে না। সব তাস আমাদের হাতে, তাদের হাতে কিছুই নেই। তারা যদি কথা বলতে চায়, শুধু ফোন করলেই হবে।’

গত সপ্তাহে তেহরানকে ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। তবে এই ঘোষণার দেওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতিমধ্যে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অর্থাৎ এর আগে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল।

এদিকে আল-জাজিরার সংবাদে বলা হয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করত।

তেলের দাম বাড়লে কী হয়

তেলের দাম বাড়লে মানুষ চাপে পড়ে। বাসভাড়া বাড়ে, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। কৃষকের সেচ খরচ বাড়ে, ছোট ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে হিমশিম খান। আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে, দৈনন্দিন জীবন হয়ে ওঠে আরও অনিশ্চিত ও কঠিন।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলো দ্রুত চাপে পড়ে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়, অবমূল্যায়ন হয় মুদ্রার। পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি তীব্র হয়। সরকার ভর্তুকি দিতে গিয়ে বাজেট ঘাটতিতে পড়ে। বিনিয়োগ কমে, প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়; সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।