প্রতিদিনের গৃহস্থালি কেনাকাটায় ‘ডিটারজেন্ট’ বা ‘পরিষ্কারক’ একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। তবে সুপারশপের সেলফ বা স্থানীয় দোকানের তাকে সারিবদ্ধ রংবেরঙের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিটারজেন্টের ভিড়ে কোনটি কেনা উচিত, তা নিয়ে অধিকাংশ ক্রেতাই দ্বিধায় পড়েন। একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে—যে ডিটারজেন্টে ফেনা যত বেশি, তা কাপড় তত ভালো পরিষ্কার করে! কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের উত্তর কিন্তু ভিন্ন।
পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আমাদের ব্যবহৃত পোশাকের আয়ু বাড়ানো, ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও ওয়াশিং মেশিনের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে ডিটারজেন্ট কেনার আগে ও ব্যবহারের সময় কিছু মৌলিক বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে—
বেশি ফেনা মানেই কি ‘বেশি পরিষ্কার’। এটি প্রচলিত ভুল। আমরা ভাবি ফেনা বেশি হওয়া মানেই ডিটারজেন্টের কার্যক্ষমতা বেশি। বাস্তবে ফেনার সঙ্গে কাপড় পরিষ্কারের সরাসরি সম্পর্ক খুব কম। মূল কাজ করে ডিটারজেন্টের ভেতরে থাকা রাসায়নিক উপাদান। অতিরিক্ত ফেনা তৈরি হলে কাপড় থেকে সাবান ধুয়ে ফেলতে বেশি পানি ও শ্রম লাগে। ফেনা কাপড়ের আঁশে থেকে গেলে কিছুদিন পর কাপড়ের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়।
ধোয়ার মাধ্যম অনুযায়ী সঠিক ডিটারজেন্ট নির্বাচন
ব্যবহারের পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে সঠিক পণ্য বেছে নেওয়া উচিত।
হ্যান্ডওয়াশ ডিটারজেন্টে: দ্রুত ফেনা হয় ও হাতে ব্যবহারে কাপড় ধোয়ার উপযোগী করে তৈরি।
ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন: এই মেশিনের জন্য কম ফেনার লিকুইড বা ম্যাটিক পাউডার প্রয়োজন। অতিরিক্ত ফেনা হলে ফ্রন্ট লোড মেশিনের ড্রাম ও মোটর নষ্ট হতে পারে।
টপ লোড ওয়াশিং মেশিন: এতে মধ্যম মাত্রার ফেনার ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে হয়।
গুঁড়া–তরল ডিটারজেন্ট
পাউডার ডিটারজেন্ট: কাদা, ধুলাবালু ও ঘরের নিত্যদিনের ভারী কাপড়ের ময়লা দূর করতে পাউডার সাবান বেশ কার্যকর ও সাশ্রয়ী।
তরল ডিটারজেন্ট: তেল, মসলা বা গ্রিসের দাগে তরল ডিটারজেন্ট ভালো কাজ করে। অল্প সময়ে পানিতে গলে যায় এবং সুতি ও রঙিন কাপড়ের রং দীর্ঘস্থায়ী করে।
প্যাকেটের গায়ে কী দেখবেন
এনজাইম: প্রোটিয়েজ, অ্যামাইলেজ বা লাইপেজযুক্ত ডিটারজেন্ট রক্ত, ডিম, দুধ বা ঝোলের দাগ তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
অপটিক্যাল ব্রাইটনার: এটি কাপড়কে চোখে সাদা ও উজ্জ্বল দেখায়, তবে খুব সংবেদনশীল ত্বকে হালকা অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে।
সংবেদনশীল ত্বক ও শিশুর কাপড়ের সুরক্ষা
পরিবারের সদস্য বা বিশেষ করে ছোট শিশুদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়। সাধারণ ডিটারজেন্টের তীব্র ক্ষার শিশুদের ত্বকে ফুসকুড়ি বা র্যাশ তৈরি করতে পারে। শিশুদের কাপড়ের জন্য ‘ডার্মাটোলজিক্যালি টেস্টেড’ এবং সুগন্ধিমুক্ত বিশেষ মৃদু লিকুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা উচিত।
সঠিক মাত্রা ব্যবহার
অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে কাপড় বেশি পরিষ্কার হয় না; বরং তা কাপড়ের সুতায় জমে থেকে কাপড় খসখসে ও শক্ত করে ফেলে। সব সময় প্যাকেটের নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাপক ক্যাপ বা চামচ দিয়ে মেপে ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন।