
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতির নতুন খাত হিসেবে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, থিয়েটার, সিনেমা ও সংগীতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব খাতও দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অবদান রাখে। কিন্তু এত দিন এগুলো উপেক্ষিত ছিল।
আজ শনিবার সচিবালয়ে অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক্-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, খেলাধুলা, থিয়েটার, সিনেমা, সংগীত—এসবকে বিনোদন হিসেবে দেখা হতো এত দিন, অর্থনৈতিক খাত হিসেবে নয়। তবে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (ইউনেসকো) পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, বিশ্বে সৃজনশীল খাত দ্রুত বড় হচ্ছে, যা তরুণদের কর্মসংস্থানের বড় উৎস এবং এ খাত থেকে রপ্তানি আয়ের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
উদাহরণ দিয়ে শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, ইউটিউব, ফেসবুক, স্পটিফাই ইত্যাদি মাধ্যম ব্যবহার করে স্থানীয় অনেক কনটেন্ট পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্ববাজারে। এসব মাধ্যমে আয় করার নতুন পথ তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই ব্যক্তি পর্যায়ে বড় উদ্যোক্তা হচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী এসব কার্যক্রমকেই বুঝিয়েছেন।
প্রাক্-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং স্টার্টআপ খাত অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকারী হচ্ছে এসএমই খাতে। এ খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে।
গ্রামীণ কারিগরদের পণ্যকে নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভালোভাবে কাজ করতে পারছে না। টাকা ছাপিয়ে এবং স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকার এমন নীতিগত অবস্থানে থাকতে চায়, যেখানে উচ্চমাত্রার মুদ্রা সরবরাহ তৈরি করে মূল্যস্ফীতি বাড়ানো হবে না এবং বেসরকারি খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে না।’
অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি অলিগার্কদের হাতে চলে গিয়েছিল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে।
বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুলিশ দিয়ে বা টিসিবি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজারকে চাহিদা ও সরবরাহ অনুযায়ী চলতে দিতে হবে।