আগামী দিনে চাকরির বাজারে টিকতে প্রয়োজন যে ১০ দক্ষতা

একসময় একটি প্রতিযোগিতামূলক জীবনবৃত্তান্তের জন্য ‘মাইক্রোসফট অফিসে দক্ষতা’ই ছিল বড় যোগ্যতা। কিন্তু সেই সময় এখন অতীত। ২০২০-এর দশকে এসে চাকরির বাজার বদলে যাচ্ছে অভূতপূর্ব গতিতে, যার প্রধান চালিকা শক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল রূপান্তর।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ কর্মীর মূল দক্ষতা পরিবর্তন করা জরুরি হবে। অর্থাৎ কলেজে যা শিখেছেন, তা আর আজীবনের জন্য যথেষ্ট নয়। এখন টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো নতুন কিছু শেখার এবং পুরোনো অভ্যাস ভুলে যাওয়ার সক্ষমতা।

আগামী দিনে নিয়োগকর্তারা যে ১০ দক্ষতা চাইছেন—
১. এআই লিটারেসি ও প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং
এটি এখন আর বিকল্প নয়; বরং বাধ্যতামূলক দক্ষতা। এআই টুল ব্যবহার করে কাজের সময় কমানোই মূল লক্ষ্য।
২. বিশ্লেষণী চিন্তা ও জটিল সমস্যা সমাধান
ডেটা বিশ্লেষণের বাইরে গিয়ে অস্পষ্ট ও জটিল ব্যবসায়িক সমস্যা ভেঙে সমাধান করার ক্ষমতা।
৩. আবেগগত বুদ্ধিমত্তা (ইকিউ) ও সহমর্মিতা
হাইব্রিড ও রিমোট কর্মপরিবেশে মানুষের আবেগ বুঝে কাজ করাই বড় শক্তি।
৪. ডেটা স্টোরিটেলিং ও ভিজ্যুয়ালাইজেশন
সংখ্যাকে গল্পে রূপ দিতে পারলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
৫. স্থিতিস্থাপকতা, নমনীয়তা ও দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা
একটি দক্ষতার ‘হাফ লাইফ’ এখন মাত্র আড়াই বছর। দ্রুত শেখা ও বদলানোই ভবিষ্যৎ।

৬. নেতৃত্ব ও সামাজিক প্রভাব
ম্যানেজার না হয়েও দলকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা এখন অত্যন্ত মূল্যবান।
৭. টেকসই উন্নয়ন ও ইএসজি দক্ষতা
পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও করপোরেট শাসন এখন শুধু নীতিগত নয়, আইনগত প্রয়োজন।
৮. সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল হাইজিন
ফিশিং, ডেটা সুরক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান এখন সবার জন্য জরুরি।
৯. ইউএক্স ও ডিজিটাল প্রোডাক্ট ডিজাইন
যে পণ্য ব্যবহার করা সহজ, সেটিই বাজারে টিকে থাকবে।
১০. প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট (অ্যাজাইল ও স্ক্রাম)
দ্রুত বদলানো লক্ষ্য পূরণে অ্যাজাইল পদ্ধতিতে কাজ করার দক্ষতা নিয়োগকর্তাদের প্রথম পছন্দ।