দেশে বেকারত্ব এখন এক বড় সংকট। এর মধ্যেই একের পর এক সরকারি চাকরি আটকে যাচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক নোংরা রাজনীতি আর আইনি জটিলতায় তরুণদের স্বপ্ন ভাঙছে। এ পরিস্থিতি দেশের বেকারত্ব সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
লাখ লাখ বেকার তরুণের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই আমলাতান্ত্রিক নোংরা খেলা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত বলে মনে করেন দেশের বেকার সমাজ।
এই প্রক্রিয়ার সর্বশেষ প্রমাণ বন অধিদপ্তরের ফরেস্টার পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতভুক্ত ‘ফরেস্টার’ পদের সংখ্যা ৩৮২টি। ১০ জুন এই পদের জন্য আবেদনের সময় শেষ হবে। কিন্তু এরই মধ্যে বন অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়োগ স্থগিতের নোটিশ ঝুলছে।
সরকারি নিয়োগ আইনের নানামুখী গ্যাঁড়াকলে পড়ে আটকে গেছে হাজারো বেকারের এমন কর্মসংস্থানের সুযোগ। বন অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে জারীকৃত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি সামনে আসে।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়, অনিবার্য কারণবশত আবেদন গ্রহণপরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম ১১ জুন ২০২৬ তারিখ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো। অর্থাৎ, আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক পরদিন থেকেই পুরো প্রক্রিয়া থমকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বন অধিদপ্তর গঠিত নিয়োগ কমিটির সদস্য ও সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘ ১০ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আমরা আবেদন সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। কিন্তু এরপর নিয়োগের বাকি প্রক্রিয়া কী হবে, তা আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হবে।’
আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ হতে না হতেই এমন আইনি জটিলতা ও স্থগিতের নোটিশ বেকার তরুণদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।