গ্রীষ্মকালীন মন্দা কাটিয়ে আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ব্যাপক গতি ফিরে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশাকে বহুদূর ছাড়িয়ে আগস্ট মাসে দেশটিতে নতুন করে এক লাখ ৬২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা গত মার্চ মাসের পর সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি। একই সময়ে দেশটির বেকারত্বের হার আগের মতোই ৪ দশমিক ১ শতাংশে স্থির রয়েছে। সম্প্রতি দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো এই ইতিবাচক তথ্য প্রকাশ করেছে। এর আগে ডাউ জোন্সের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা মাত্র ৫৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, সার্বিক বেকারত্বের হার অপরিবর্তিত থাকলেও বাজারে নতুন কর্মশক্তির অংশগ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় গৃহস্থালি জরিপে প্রায় পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আগের দুই মাস জুন ও জুলাইয়ের সংশোধিত তথ্যেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। জুলাই মাসে যেখানে আগে চাকরি হারানোর কথা বলা হয়েছিল, তা সংশোধন করে ২১ হাজার নতুন চাকরি যুক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। আগস্ট মাসে কর্মীদের গড় ঘণ্টাভিত্তিক আয় বেড়েছে ০.৩ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.১ শতাংশ বেশি।
খাতভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে রেস্তোরাঁ ও বার খাতে, যেখানে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষ কাজের সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি শিক্ষা খাতে ৪২ হাজার, উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ১৬ হাজার এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৩ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। বিপরীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্যভিত্তিক শিল্প খাতে ২৩ হাজার চাকরি সংকুচিত হয়েছে।
এই খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার পুনর্নির্ধারণ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে সুদের হার বাড়ার একটি আশঙ্কা তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগস্টের এই পরিসংখ্যানকে ‘দারুণ এক চাকরির খবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সুদের হার না বাড়িয়ে কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ফেড সুদের হার না কমালে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে সার্বিকভাবে বাজার বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনো বেশ শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত রয়েছে। সিএনবিসি অবলম্বনে