৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নিয়োগের পরবর্তী দাপ্তরিক প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি
৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নিয়োগের পরবর্তী দাপ্তরিক প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি

৪৪তম বিসিএস নন–ক্যাডার: জ্যেষ্ঠতা হারানোর শঙ্কায় ৩ হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী

৪৪তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নিয়োগের পরবর্তী দাপ্তরিক প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ফল প্রকাশিত হলেও ২ হাজার ৯৬৮ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর ফাইল এখনো বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রার্থীরা এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সুপারিশপ্রাপ্তদের তথ্যাদি যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান। বিশেষ করে টেকনিক্যাল নন-ক্যাডার পদগুলোর যাচাই-বাছাইয়ে কিছুটা বাড়তি সময় লাগছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফাইলগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এদিকে প্রার্থীরা জানান, সাধারণত ফল প্রকাশের ১৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ফাইল পাঠানোর কাজ সম্পন্ন হওয়ার নজির থাকলেও এবার ৬৬ দিন পার হয়ে গেছে। এদিকে ৪৪তম বিসিএসের ফাইল পিএসসিতে আটকে থাকলেও পরবর্তী ৪৫তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার তারিখ এরই মধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে। প্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন, ৪৫তম বিসিএসের প্রার্থীরা যদি ৪৪তম বিসিএসের আগে যোগদানের সুযোগ পান, তবে চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে এক বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, ৪৪তম বিসিএসের পুরো প্রক্রিয়া নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। দুই দফায় ভাইভা এবং তিন দফায় সংশোধিত ক্যাডার ফল প্রকাশের পর গত ফেব্রুয়ারিতে নন-ক্যাডারের ফল দেওয়া হয়। প্রার্থীরা বলছেন, এই বিলম্বের কারণে মাঠপর্যায়ে উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবলসংকট প্রকট হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এ অবস্থায় সুপারিশপ্রাপ্তরা দাবি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে হবে এবং আগামী মে মাসের মধ্যে ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করতে হবে। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিশন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।