সিভি হাতে চাকরি মেলায় শিক্ষার্থীরা
সিভি হাতে চাকরি মেলায় শিক্ষার্থীরা

মাত্র ১১ সেকেন্ডের জাদুতে মিলতে পারে চাকরি: সিভিতে যা থাকা জরুরি

আপনার দীর্ঘ বছরের পড়াশোনা আর অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ হলো একটি সিভি। অথচ সেই সিভির ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় মাত্র ১১ দশমিক ২ সেকেন্ডে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত এআই প্ল্যাটফর্ম ইন্টারভিউ-প্যাল এক গবেষণায় এ তথ্য জানিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে একটি ছোট ভুল কিংবা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য আপনার স্বপ্নের চাকরির সুযোগ নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষ করে বড় বড় কোম্পানি এখন মানুষের আগে এআই দিয়ে সিভি বাছাই করে। তাই প্রথম দেখাতেই নজর কাড়তে হলে আপনার সিভিতে কিছু বিশেষ পরিবর্তন আনা জরুরি।

যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে সিভি তৈরি করুন-

নিয়োগকর্তারা প্রথমেই দেখেন পদের চাহিদার সঙ্গে আপনার যোগ্যতার মিল কতটা। সিভির প্রথম কয়েকটি লাইনেই প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করুন। এমনভাবে তথ্য সাজান, যেন তা চাকরির বিজ্ঞপ্তির অন্তত ৮০ শতাংশ শর্ত পূরণ করে। অস্পষ্ট কথা লিখে পাতা ভরানোর চেয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া বেশি কার্যকর। মনে রাখবেন, প্রথম কয়েক সেকেন্ডে যদি নিয়োগকর্তা তাঁর প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে না পান, তবে আপনার সিভিটি বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টু দ্য পয়েন্ট সিভিই বেশি কার্যকর। ছবি, যোগাযোগের সঠিক তথ্য এবং সেরা দক্ষতাগুলো যেন সিভির ওপরের অংশেই থাকে

সাফল্যের ফলাফল দেখান সংখ্যায়-

সিভিতে গতানুগতিক বাক্য লিখবেন না। আপনি অতীতে কী অর্জন করেছেন, তা সংখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিন। যেমন আপনি কোনো প্রকল্পে কাজ করে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়িয়েছেন, এই রকম তথ্য স্পষ্টভাবে সিভিতে উল্লেখ করুন। এই ধরনের সংখ্যাবাচক তথ্য নিয়োগকর্তার মনে আপনার সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করে। এটি প্রমাণ করে যে আপনি কেবল কাজই করেন না, বরং কাজে সফল হতে জানেন।

আপনার সিভি হলো আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং। ১১ সেকেন্ড সময়টি খুব কম মনে হলেও এটিই আপনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এআই/প্রথম আলো

এআই এবং কি-ওয়ার্ডের খেলা-

বর্তমান চাকরির বাজারে এআই টুল ব্যবহার করে সিভি বাছাই করা হয়। আপনার সিভিতে যদি পদের সঙ্গে মিল রেখে সঠিক ‘কি-ওয়ার্ড’ বা মূল শব্দ না থাকে, তবে তা মানুষের চোখে পড়ার আগেই বাদ পড়ে যাবে। তাই যে পদের জন্য আবেদন করছেন, সেই বিজ্ঞপ্তির মূল শব্দগুলো সিভিতে বুদ্ধিদীপ্তভাবে ব্যবহার করুন। তবে খেয়াল রাখবেন, সিভিটি যেন পুরোপুরি এআই দিয়ে তৈরি না হয়। যান্ত্রিক সিভির চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর অর্জনের ছোঁয়া আছে এমন সিভিই নিয়োগকর্তারা বেশি পছন্দ করেন।

বাংলাদেশের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ সচেতন। আমাদের দেশেও এখন সিভির গুরুত্ব বাড়ছে। তবে অনেকেই সিভিতে অনেক অপ্রাসঙ্গিক তথ্য, যেমন পারিবারিক পরিচয় বা শখের তালিকা দিয়ে বড় করে ফেলেন। এটি একদমই উচিত নয়। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টু দ্য পয়েন্ট সিভিই বেশি কার্যকর। আপনার ছবি, যোগাযোগের সঠিক তথ্য এবং আপনার সেরা দক্ষতাগুলো যেন সিভির ওপরের অংশেই থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

আপনার সিভি হলো আপনার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং। ১১ সেকেন্ড সময়টি খুব কম মনে হলেও এটিই আপনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। নিজের অর্জনগুলো সংক্ষেপে এবং আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে পারলেই আপনি অন্যদের চেয়ে চাকরি পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন। তাই আজই আপনার পুরোনো সিভিটি নতুন করে সাজিয়ে নিন।