এনটিআরসিএর ১৩,৫৯৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান পদে আবেদন করবেন যেভাবে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার পদে নিয়োগে আবেদন চলছে। এনটিআরসিএ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে তিন অধিদপ্তরের আওতায় থাকা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদে আবেদনে ফরম পূরণের কিছু নিয়ম রয়েছে।

আবেদনের প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীদের ওয়েবসাইটে ফরম পূরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিওয়েবসাইটে পাবেন আবেদনকারীরা। ৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ আবেদন কার্যক্রম চলবে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত টাকা জমা দেওয়া যাবে।

অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের পদ্ধতি ও নিয়ম

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রার্থী যে পদে আবেদন করার যোগ্য ও ইচ্ছুক, ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সেই পদের বাটন সিলেক্ট করে আবেদনপত্রের ফরম পূরণ করবেন।

২. আবেদনপত্রে প্রার্থী নিজ স্বাক্ষর (দৈর্ঘ্য ৩০০ × প্রস্থ ৮০) পিক্সেল ও সদ্য তোলা স্পষ্ট রঙিন ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড) (দৈর্ঘ্য ৩০০ × প্রস্থ ৩০০) পিক্সেল স্ক্যান করে নির্ধারিত স্থানে আপলোড করবেন।

৩. প্রার্থী যে পদে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে যোগ্য ও ইচ্ছুক, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সেই পদ নির্ধারণ করবেন এবং তা আবেদনপত্রে উল্লেখ করবেন।

পরীক্ষার ফি প্রদান

১. নির্ভুলভাবে আবেদনপত্র দাখিল করার পর প্রার্থী একটি ইউজার আইডি এবং ছবি ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি অ্যাপ্লিকেন্টস কপি পাবেন।

২. ইউজার আইডি ব্যবহার করে প্রার্থী যেকোনো টেলিটক প্রিপেইড নম্বরের মাধ্যমে দুটি এসএমএস করে পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান করবেন।

প্রথম এসএমএস: NTRCAH

প্রার্থী ফিরতি এসএমএসে PIN পাবেন।

দ্বিতীয় এসএমএস: NTRCAH

আবেদন ফি

৩৫০ টাকা (আবেদন ফরম জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফি প্রদান করতে হবে)।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ হবে পরীক্ষার মাধ্যমে। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় শূন্য পদ ১৪০ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় শূন্য পদ রয়েছে ৩ হাজার ১৩১। তিন অধিদপ্তরের মোট শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫৯৯।

নিয়োগ পরীক্ষার নম্বর বণ্টন ও সময়

এমসিকিউ পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা। এমসিকিউ পরীক্ষা হবে ৮০ নম্বরে। বাকি ২০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের জন্য বরাদ্দ ১২ এবং মৌখিক পরীক্ষা হবে ৮ নম্বরে। মোট ১০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় পাসের ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে আলাদাভাবে।

মোট ৮০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর, তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ (দশমিক দুই পাঁচ) নম্বর বিয়োগ হবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

পরীক্ষার বিষয়

বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি), প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা (আইন, বিধি–প্রবিধি, নীতিমালা, পরিপত্র ও আদেশগুলো), আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং অধিদপ্তর অনুসারে উল্লিখিত বিষয়গুলো।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থাপনা। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট মৌলিক জ্ঞান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, আল কোরআন, হাদিস, ফিকাহ, আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষা।

নিয়োগ সুপারিশ প্রক্রিয়া

এমসিকিউ ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে মোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম ও প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুসারে টেলিটকের তত্ত্বাবধানে সফটওয়্যারের সাহায্যে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম সম্পাদন করা হবে।

কোন অধিদপ্তরে কত পদ

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় স্নাতক পাস কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪ ও উপাধ্যক্ষ ৬২৭; উচ্চমাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ৭৬৮; মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৯২৩ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৮৭২ এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৫০৪ শূন্য পদ রয়েছে। মোট শূন্য পদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় অধ্যক্ষ ১১০ ও ভোকেশনালের সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টিসহ মোট শূন্য পদ রয়েছে ১৫০।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় কামিল পর্যায়ের অধ্যক্ষ ৩৪ ও উপাধ্যক্ষ ৫৩; ফাজিল পর্যায়ের অধ্যক্ষ ২০২ ও উপাধ্যক্ষ ৩৪৩; আলিম অধ্যক্ষ ২১৯ ও উপাধ্যক্ষ ৩৭৭ এবং দাখিলের সুপারিনটেনডেন্ট ৮৯৯ ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ১ হাজার ৪টিসহ মোট শূন্য পদ ৩ হাজার ১৩১।

বিশেষ নির্দেশনা

আবেদনপত্র দাখিল করার পর কোনো তথ্য সংশোধনযোগ্য নয়।

বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়