সরকারি চাকরির সাক্ষাৎকারে প্রচলিত আনুষ্ঠানিক পোশাকের বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসছে দক্ষিণ কোরিয়া। এখন থেকে দেশটির জাতীয় সরকারি চাকরির সাক্ষাৎকারে প্রার্থীরা জিনস, স্নিকার্সসহ অপেক্ষাকৃত সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন। বরং এ ধরনের পোশাক পরার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জনবল ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ১১ সেপ্টেম্বর সাক্ষাৎকারের পোশাকসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। আগামী অক্টোবর থেকে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে।
মন্ত্রণালয় পুরুষ ও নারী প্রার্থীদের জন্য উপযুক্ত পোশাকের উদাহরণ দেখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কিছু ছবিও প্রকাশ করেছে। এসব ছবিতে জিনস, স্নিকার্স, জ্যাকেট, শার্ট, নিট পোশাক, স্ল্যাকস, চিনোস ও ফ্ল্যাট জুতার মতো পোশাক দেখানো হয়েছে।
যেসব পোশাক পরা যাবে না
তবে সব ধরনের সাধারণ পোশাককে উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। হাইকিংয়ের পোশাক, খেলাধুলার পোশাক, শর্টস, হাতাকাটা টপ, হাই হিল ও স্লিপার না পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে টাই ও আনুষ্ঠানিক ড্রেস ও শু পরা সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পোশাক, শু নিষিদ্ধ করার পেছনে বেশ বাস্তব একটি কারণও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাদের ভাষ্য, জুতার শব্দ কখনো কখনো পরীক্ষার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
স্যুট কেনার চাপ কমাতে উদ্যোগ
সরকারি চাকরির সাক্ষাৎকারে কয়েক বছর ধরেই প্রার্থীদের তুলনামূলক সাধারণ পোশাক পরতে উৎসাহ দিয়ে আসছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। টাই না পরার বিষয়টিও আগে থেকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক প্রার্থী এখনো কালো স্যুট ও আনুষ্ঠানিক জুতা পরেন।
মন্ত্রণালয় বলেছে, সাধারণ পোশাককে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্য হলো চাকরিপ্রার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ কমানো। এ ছাড়া তাঁদের আরও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নতুন নির্দেশনা প্রকাশের পর দক্ষিণ কোরিয়ার অনলাইন কমিউনিটি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিক্রিয়া অবশ্য মিশ্র।
একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, পরিবর্তনটি ভালো হয়েছে। শুধু চাকরির সাক্ষাৎকারে পরার জন্য একটি স্যুট কিনে রাখাকে তিনি অপচয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন নির্দেশনা বাস্তবে প্রার্থীদের পোশাকের ধরনে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না। একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত সবাই স্যুটই পরবে।’