বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেতে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার গত বছরের ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ রায় দেন।
প্রথম রিভিউ ফলাফল বাতিল করে দ্বিতীয় রিভিউর জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের গত ২৩ নভেম্বরের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে করা পৃথক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা বাদল, আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ শুনানিতে ছিলেন। বার কাউন্সিলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অনীক আর হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুজ্জামান তুহিন।
পরে রিট আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা বাদল প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম রিভিউ ফলাফল বাতিল করে দ্বিতীয় রিভিউর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিটগুলো করা হয়। ২৩ নভেম্বরের ওই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম রিভিউ ফলাফলে উত্তীর্ণ, দ্বিতীয় রিভিউ ফলাফলে বাদ পড়া রিট আবেদনকারীসহ প্রার্থীদের যৌক্তিক সময়ের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বার কাউন্সিলের গত বছরের ২৮ জুন অনুষ্ঠিত এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার ফলাফল একই বছরের ২৫ অক্টোবর প্রকাশ করা হয়। তাতে ৭ হাজার ৯১৭ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। এই লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির কাছে বিভিন্নভাবে আবেদন/অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিভিউ আবেদন আহ্বান করা হয়।
আবেদনকারীপক্ষের তথ্য অনুসারে, গত বছরের ১৮ নভেম্বর রিভিউর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তাতে ১ হাজার ৯১৪ জন উত্তীর্ণ হন। গত বছরের ২৩ নভেম্বর এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষাসংক্রান্ত জরুরি এক বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত রিভিউ ফলাফল বাতিল করে রিভিউ আবেদনকারী প্রত্যেক প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে উল্লেখ করা হয়। চলতি বছরের ৫ মার্চ এই রিভিউ (দ্বিতীয় রিভিউ) ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তাতে ১ হাজার ৫৫০ জন উত্তীর্ণ হন।
রিট আবেদনকারীপক্ষ জানায়, প্রথম রিভিউ ফলাফলে উত্তীর্ণ, দ্বিতীয় রিভিউর ফলাফলে বাদ পড়া ৬৩২ প্রার্থী পৃথক রিট করেন। প্রথম রিভিউর ফলাফল বাতিল করে দ্বিতীয় রিভিউর জন্য গত ২৩ নভেম্বরের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়।