সাধারণ বিজ্ঞান

জুনিয়র স্কুলসার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি: সাধারণ বিজ্ঞান, ইংরেজি ও বাংলা

অধ্যায়-২০প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বিংশ অধ্যায়ের ‘মেরুদণ্ডী প্রাণী: মুরগি’ থেকে সৃজনশীল পদ্ধতির একটি নমুনা প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব। এ ধরনের অন্য প্রশ্নোত্তরের জন্য বিষয়বস্তুটি ভালোভাবে পড়বে।# শিক্ষক ব্যবহারিক ক্লাসে তিনটি প্রাণী নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর ব্যবহারিক খাতায় শিক্ষার্থীরা ওই প্রাণী তিনটির চিত্র অঙ্কন করে বৈশিষ্ট্যগুলো লিপিবদ্ধ করে। প্রাণী তিনটির মধ্যে প্রথমটি উড়তে পারে, দ্বিতীয়টি সন্তান প্রসব করে এবং তৃতীয়টি বুকে ভর দিয়ে চলাচল করে।প্রশ্ন: ক. উভচর প্রাণী কাকে বলে?প্রশ্ন: খ. মুরগি খাদ্য গ্রহণের সময় পাথরের নুড়ি গিলে ফেলে কেন?প্রশ্ন: গ. প্রাণীগুলো কোন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার্থীরা তা কীভাবে শনাক্ত করতে পারবে?প্রশ্ন: ঘ. উদ্দীপকের প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনটি উন্নত শ্রেণীর? মতামত দাও।উত্তর: ক. উভচর প্রাণী: যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী স্থলে ও পানিতে উভয় স্থানেই বাস করতে পারে, তাদের উভচর প্রাণী বলে। যেমন—ব্যাঙ।উত্তর: খ. মুরগি খাদ্য গ্রহণের সময় মাঝেমধ্যে ছোট পাথরের নুড়ি গিলে ফেলে। কারণ, মুরগির কোনো দাঁত না থাকায় এ পাথরের নুড়িগুলো খাদ্যকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে সাহায্য করে। খাদ্য যখন পেশিবহুল প্রকোষ্ঠ তথা গিলায় এসে আলোড়িত হতে থাকে, তখন এ নুড়ির ধর্ষণের ফলে খাদ্য পিষ্ট হয়ে যায়।উত্তর: গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম প্রাণীটি উড়তে পারে, এদের দেহ পালকে ঢাকা থাকে। ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। এদের শক্ত ঠোঁট আছে কিন্তু কোনো দাঁত নেই। কাজেই এটি পক্ষীকুল (Aves) শ্রেণীর। দ্বিতীয় প্রাণীটি সন্তান প্রসব করে। এদের দেহ লোমে আবৃত, সন্তান মাতৃস্তন্য পান করে থাকে। কাজেই এটি স্তন্যপায়ী (Mammalia)। তৃতীয় প্রাণীটি বুকে ভর দিয়ে চলাচল করে। এদের ফুসফুস আছে। গায়ের চামড়া শুকনো বা শক্ত আবরণে ঢাকা, আঙুল নখরযুক্ত। কাজেই এটি সরীসৃপ (Reptilia)। সুতরাং প্রাণীগুলোর পৃথক পৃথক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এগুলোকে শ্রেণীবিভক্ত করতে পারবে।উত্তর: ঘ. উদ্দীপকের প্রাণীগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় প্রাণীটি অন্য দুটি প্রাণী থেকে উন্নত। কারণ, এটি স্তন্যপায়ী (Mammalia) শ্রেণীর। যে যে কারণে প্রাণীটি উন্নত তা নিম্নে দেওয়া হলো:১. প্রাণীটি বাচ্চা প্রসব করে। বাচ্চা মাতৃস্তন্য পান করে। কিন্তু অন্য প্রাণী দুটিতে তা দেখা যায় না।২. প্রাণীটির মস্তিষ্ক অন্য দুটির তুলনায় উন্নত ও সুগঠিত।৩. এদের ফুসফুসের গঠন অনেক উন্নত।৪. প্রাণীটির সব অঙ্গ (যেমন—নাক, কান, পা, দাঁত ইত্যাদি) অন্য প্রাণীগুলো অপেক্ষা সুগঠিত।৫. সব প্রাণীরই মেরুদণ্ড আছে। তবে দ্বিতীয় প্রাণীটির মেরুদণ্ড সবচেয়ে বেশি সুগঠিত।৬. প্রাণীটির হূৎপিণ্ড অন্য প্রাণীগুলোর চেয়ে উন্নত।৭. প্রাণীটির দেহ লোমে ঢাকা। ফলে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে।৮. এটি অন্য প্রাণী দুটির তুলনায় বেশি বুদ্ধিসম্পন্ন। উপরিউক্ত কারণগুলো পর্যালোচনা করে বলা যায় যে দ্বিতীয় প্রাণীটি অন্য দুটি প্রাণী থেকে উন্নত শ্রেণীর।