২০১৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর প্রস্ত্ততি

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

অধ্যায়-২
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের অধ্যায়-২ থেকে প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

প্রশ্ন: বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামে তিতুমীর, সূর্য সেন, প্রীতিলতা ও ক্ষুদিরাম কী অবদান রেখেছিলেন?
উত্তর : বিদেশি ইংরেজ শাসনকে বাংলার মানুষ বিনা প্রতিরোধে মেনে নেয়নি। আঠারো শতকের শেষভাগ থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত বাংলায় একাধিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের বিদ্রোহ, ফরায়েজি আন্দোলন, সাঁওতাল বিদ্রোহ ইত্যাদি।
ইংরেজ ও জমিদারদের শোষণ ও অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে তিতুমীর বর্তমান ভারতের পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগনা জেলার নারকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিলেন। যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি মারা যান। বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী চেতনার ব্যাপক বিস্তার ঘটে। যার ফলে স্বরাজ আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন ও সশস্ত্র যুব বিদ্রোহ ঘটে। ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণে ক্ষুদিরাম ও মাস্টারদা সূর্য সেনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। আর সফল অভিযান শেষে ইংরেজদের হাতে ধরা পড়া এড়ানোর জন্য প্রীতিলতা স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন: বাংলায় নবজাগরণের ফলাফল কী ছিল?
উত্তর : ইংরেজ শাসনের সময় আধুনিক ও ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণির হাত ধরেই উনিশ শতকে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে।
নবজাগরণের ফলাফল নিচে দেওয়া হলো:
১. নবজাগরণের ফলে সামাজিক সংস্কারসহ, শিক্ষা, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটে।
২. ভারতে জাতীয়তাবাদের চেতনার বিকাশ ঘটে।
৩. এরই ফলে একসময় ১৮৮৫ সালে ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস’ নামক রাজনৈতিক দল গঠিত হয়।
৪. বাংলার জাতীয়তাবাদ আন্দোলন দমনের জন্য বৃটিশ সরকার ১৯০৫ সালে তৎকালীন বাংলা প্রদেশকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্ব বাংলা ও আসাম নিয়ে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়।
৫. বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে বাংলায়। ফলে, ইংরেজরা ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
৬. ওই পটভূমিতে মুসলমান সমাজের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে ১৯০৬ সালে ঢাকায় ভারতীয় মুসলিম লীগ নামে একটি অরাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করে।
৭. বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশি চেতনার ব্যাপক বিস্তার ঘটে। যার ফলে স্বরাজ আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন ও সশস্ত্র যুব বিদ্রোহ ঘটে।
প্রশ্ন: ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের গুরুত্ব বর্ণনা করো।
উত্তর : ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ছিল প্রথম বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রাম। এই বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করা। বাংলায় শুরু হয়ে ইংরেজ-অধিকৃত ভারতের অন্যান্য এলাকায় সিপাহিদের মধ্যেও এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিম বাংলার ব্যারাকপুরে সিপাহি মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়। ইংরেজরা এই বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করে। নিরপরাধ বহু মানুষকে এ সময় নির্বিচারে ফাঁসি দেওয়া হয়।
সিপাহি বিদ্রোহীরা পরাজিত হলেও এই বিদ্রোহের ফলেই কোম্পানির শাসনের অবসান হয়। শুরু হয় বৃটিশরাজ, তথা রানি ভিক্টোরিয়ার শাসন।
সিনিয়র শিক্ষক
প্রগতি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা