বাংলা ২য় পত্র

রচনামূলক ও বহুনির্বাচনি অংশে জোর দাও

প্রিয় পরীক্ষার্থী, শুভেচ্ছা নিয়ো। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় বাংলা ২য় পত্রে মোট ৫০ নম্বর থাকবে। রচনামূলক অংশে রয়েছে ৩০ নম্বর এবং বহুনির্বাচনি অংশে রয়েছে ২০ নম্বর। বহুনির্বাচনি অংশে ভালো নম্বর পেতে হলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ৮ম শ্রেণির জন্য নির্ধারিত ‘ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ বইটি ভালো করে পড়তে হবে। এতে ২০ নম্বরের মধ্যে পুরো নম্বরই পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

সারাংশ বা সারমর্ম: এ অংশে ভালো করতে হলে প্রথমে নির্ধারিত মূল অংশটি কয়েকবার পড়ে মূলভাবটি বুঝে নিয়ে সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষায় সংক্ষেপে লিখতে হবে। উপমা, উদ্ধৃতি দেওয়া যাবে না।
ভাবসম্প্রসারণ: ভাবসম্প্রসারণ পাঠ্যবই থেকেই আসবে। উদ্ধৃত অংশটি ভালো করে পড়ে মূলভাবটি আগে বুঝে নিতে হবে। তারপর এই ভাবের অর্ন্তনিহিত তাত্পর্যকে সহজ ও সাবলীলভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনটি প্যারা করে লেখা যায়। প্রথম প্যারায়, দুই-তিনটি বাক্যে মূলভাব, দ্বিতীয় প্যারায় বিশ্লেষণ (তথ্যনির্ভর আলোচনা), শেষ প্যারায়, দুই-তিনটি বাক্যে তোমার মতামত।
অনুধাবন অভীক্ষা/অনুচ্ছেদ: অনুধাবন অভীক্ষার জন্য প্রদত্ত অনুচ্ছেদটি কয়েকবার পড়ে নিয়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর সঠিকভাবে গুছিয়ে লিখতে হবে। অনুচ্ছেদটি লেখার সময় যে বিষয়টি নিয়ে লিখছ, সেটি সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করবে। সেই সঙ্গে বিষয়বস্তু যাতে অনুচ্ছেদটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় লিখবে না। মনে রাখবে, এখান থেকে ৫টি ১ নম্বরের প্রশ্ন আসবে। সংক্ষেপে সঠিক উত্তর করবে। অনুচ্ছেদ এক প্যারাতে লিখতে হবে। বিষয়বস্তু মাথায় রেখে ব্যাখ্যা করলেই এখানে পুরো নম্বা পাওয়া সম্ভব।
পত্রলিখন: পত্র লেখার সময় কাঠামোগত পদ্ধতি মেনে চলবে। বিষয়বস্তু সহজ ভাষায় উপস্থাপন করবে। ব্যক্তিগত পত্রে খাম ব্যবহার করবে। প্রশ্নপত্রে নির্ধারিত নাম ও ঠিকানা দেখে পত্রের উত্তর লিখবে।
রচনা/প্রবন্ধ: প্রবন্ধ/রচনা লেখার মান সমৃদ্ধ করতে হলে বোর্ডের মূল বই থেকে কয়েকটি রচনা নির্বাচন করে নোট করে নেবে; বারবার পড়ে আত্মস্থ করে নেবে। একেকটি ভাব, একেকটি অনুচ্ছেদে গুছিয়ে লিখবে এবং অনুচ্ছেদগুলো সংগতিপূর্ণ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিরোনাম প্রশ্নপত্রে দেওয়া থাকবে।

উত্তর লেখার সময় নিচের বিষয়গুলোর প্রতি অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে:
১। উত্তরটি প্রাসঙ্গিক ও যথাযথ হতে হবে।
২। উত্তরের শুরু ও শেষ আকর্ষণীয় হতে হবে।
৩। বানানের প্রতি অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
৪। হাতের লেখা সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হতে হবে।
৫। উত্তর সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা উচিত।
৬। প্রশ্নের প্রশ্ন বুঝে উত্তর করবে।

শিক্ষক, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা