
বাংলাদেশের দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণে ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার (৫৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা) দিতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন কার্যালয় থেকে সংস্থাটি এ তহবিল অনুমোদন দেওয়া হয়। বস্তিতে বসবাসরত দরিদ্র শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি কক্সবাজারে স্কুল থেকে ঝরে পড়ে কিশোর-কিশোরীদের প্রাক্-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে এ–সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানানো হয়।
বিশ্বব্যাংকের আরওএসসি-২ প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে আটটি সিটি করপোরেশনে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী বস্তির প্রায় ৩৯ হাজার শিশু প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার সক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি প্রকল্পটির মাধ্যমে কক্সবাজারে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীকে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিন মাসের এক কোর্সের মধ্য দিয়ে কিশোর-কিশোরীকে যুগের সঙ্গে তাল মেলানো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। চলমান আরওএসসি-২ প্রকল্পটি ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ ও ভুটান) মার্সি টেমবন বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে অনেক নিম্ন আয়ের এবং বস্তির গরিব পরিবারের শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা বেশি। পাশাপাশি করোনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুবকদেরও চাকরি খুঁজে পেতে অনেক বেশি অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। আরওএসসি-২ প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থায়ন শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করার পাশাপাশি যুবকদের জীবিকার সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে।
২০১৯ সাল থেকে আরওএসসি-২ প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংক কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষা এবং মনো-সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম প্রদান করে আসছে।
এ প্রকল্পের বিশ্বব্যাংকের টিম লিডার সৈয়দ রাশেদ আল-জায়েদ বলেছেন, ‘শিক্ষা থেকে দূরে থাকা দরিদ্র পরিবারগুলোর শিশুদের জন্য প্রকল্পটি দ্বিতীয় সুযোগ। প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিশু, যাদের প্রায় অর্ধেকই বালিকা, তারা আনন্দ স্কুল (আনন্দের স্কুল) নামে পরিচিত শিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে পড়াশোনা করছে। আনন্দ স্কুলে সাফল্যের ভিত্তিতে ‘সবার জন্য শিক্ষা’র দিকে ঝোঁকে সরকার। আর সরকারের এ দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল শহরের বস্তির শিশুদের এ প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য।
আনন্দে স্কুলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন উপজেলার দরিদ্র শিশুদের মাঝে বিনা মূল্য বই, পোশাকসহ যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হয়। এতে ইতিবাচক ফল মেলে। ২০১৮ সালে আনন্দ স্কুলের ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাস করে।