কালচারাল প্রটেকশন ফান্ডের ১০ বছর পূর্তি, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা আয়োজনে ব্রিটিশ কাউন্সিল

ঝুঁকিতে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কালচারাল প্রটেকশন ফান্ড। এ বছর সেই তহবিলের ১০ বছর পূর্তি হলো। এই মাইলফলক উপলক্ষে বাংলাদেশে ঐতিহ্য সংরক্ষণে নিয়োজিত পেশাজীবীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা আয়োজন করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

এসব কর্মশালার লক্ষ্য, ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা, পেশাজীবী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে শক্তিশালী একটি যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘কালচারাল প্রটেকশন ফান্ড ঐতিহ্য সুরক্ষার পাশাপাশি মানবসম্পদে বিনিয়োগে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বাংলাদেশজুড়ে নতুন পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে আমরা ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে, নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এবং তাঁদের সাংস্কৃতিক সুরক্ষার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করছি।’

২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় কালচারাল প্রটেকশন ফান্ডের সহায়তায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন করা এবং মানুষের ইতিহাস, পরিচয় ও পারস্পরিক বন্ধনের সঙ্গে যুক্ত এমন ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা। ২০২৪–২৫ সালে বাংলাদেশের বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই কর্মসূচির আওতায় জাদুঘরের সব কর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল জাদুঘরের সংগ্রহ সংরক্ষণ ও রক্ষা করা এবং ওরাল ট্র্যাডিশন সুরক্ষিত রাখা। পাশাপাশি বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সংগ্রহ থেকে কিউরেট করা ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী ‘২৫টি বস্তুতে বাংলাদেশের ইতিহাস’ প্রস্তুত করা হয়। একইভাবে পাকিস্তানে এই তহবিলের সহায়তায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে সিন্ধু বদ্বীপের সামুদ্রিক ঐতিহ্য ও হাজারা অঞ্চলের হস্তশিল্প। সংস্কার করা হচ্ছে সোয়াত উপত্যকার বৌদ্ধ নিদর্শন। মেরামত করা হচ্ছে ঐতিহাসিক সিল্ক রুটের স্থাপনা। আবার করাচির খালিকদিনা হলকে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে।