
অধ্যায় ১
প্রশ্ন: ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামক আক্রমণে কোন কোন বাহিনী অংশ নেয়?
উত্তর: ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামক আক্রমণে ভারতের মিত্রবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী মিলে যুদ্ধ করে।
প্রশ্ন: যৌথবাহিনী কবে গঠিত হয় এবং এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
উত্তর: মিত্রবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী মিলে গঠিত হয় যৌথবাহিনী।
প্রশ্ন: পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল কোথায় স্বাক্ষর হয় এবং কারা এ দলিলে স্বাক্ষর করেন?
উত্তর: ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে যৌথবাহিনীর পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তানের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
প্রশ্ন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন?
উত্তর: ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন এবং ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় উপাধিগুলো কী কী?
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব ও সাহসিকতা প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ উপাধিগুলো হলো-
ক. বীরশ্রেষ্ঠ, খ. বীর উত্তম,
গ. বীর বিক্রম ও ঘ. বীর প্রতীক।
যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন
প্রশ্ন: শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস বলতে কী বোঝ? কোন তারিখে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়? শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের ৪টি কারণ লেখো।
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে দেশকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা নেয় পাকিস্তানি বাহিনী। সেই পরিকল্পনা অনুসারে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। বুদ্ধিজীবী হত্যার চূড়ান্ত দিনটিকে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালন করা হয়।
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের ৪টি কারণ-
১. শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া
২. তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা
৩. মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অবদানের কথা নতুন প্রজন্মকে জানানো
৪. বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম জাগানো ।
প্রশ্ন: অপারেশন সার্চলাইট কী? কার নির্দেশে এ আক্রমণ করা হয়? পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে ৪টি বাক্য লেখো।
উত্তর: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে একযোগে আক্রমণ করে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এই আক্রমণের নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন সার্চলাইট। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার নির্দেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এ আক্রমণ চালায় ২৫ মার্চ রাতে।
পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে নিচে একটি বর্ণনা েদওয়া হলো —
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, ইপিআর সদর দপ্তর পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, শিক্ষকদের বাসভবনসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে একযোগে আক্রমণ করে। সেই ভয়াল রাতে হানাদারবাহিনী দেশের অন্য বড় বড় শহরেও আক্রমণ চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশ, ইপিআর সদস্যসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। যা গণহত্যার শামিল। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ বাঙালি শহীদ হন।