এআই/প্রথম আলো
এআই/প্রথম আলো

এসএসসি ২০২৬ বাংলা ১ম পত্র : প্রত্যুপকার—উপকারীর উপকার স্বীকার করে কৃতজ্ঞ ব্যক্তি

বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

গদ্য: প্রত্যুপকার

প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী, তোমরা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। আজ বাংলা প্রথম পত্রের ‘প্রত্যুপকার’ গদ্যের ওপর একটি সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়া হলো। তোমরা মনোযোগ দিয়ে প্রশ্নটি পড়বে।

# নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও। 

এক ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে কিছু লোক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে হাজির করল। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি গ্রাম পুলিশ আবুলকে ডেকে নির্দেশ দিলেন বন্দীকে তাঁর বাড়িতে রাখতে। ঘটনাক্রমে আবুল জানতে পারলেন, বন্দী ব্যক্তি আর কেউ নয়, সে ১০ বছর আগে আবুলের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল, নিজ গৃহে নিয়ে আহত সন্তানের সেবা করেছিল; কিন্তু আবুল নিজের ক্ষতি হবে ভেবে না চেনার ভান করে চুপ করে রইল।

প্রশ্ন 

ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ কী? 

খ. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন কেন? 

গ. উদ্দীপকের বন্দীর ঘটনা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো। 

ঘ. ‘আবুল ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দী কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা এক রকম নয়’—বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ হলো উপকারীর উপকার করা।

খ. বন্দী সম্পর্কে সত্য কথা জানার পর খলিফা মামুন কিছুক্ষণ চুপ ছিলেন, যাতে তিনি সঠিক ও উপযুক্ত বিচার করতে পারেন। আলী ইবনে আব্বাস ছিলেন খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র। একদিন খলিফার সৈন্য দল আব্বাসের প্রাণ রক্ষাকারী ও আশ্রয়দাতাকে বন্দী করে আনে। আলী ইবনে আব্বাস বন্দীর সঠিক পরিচয় জানতে পেরে খলিফা মামুনের কাছে তাঁর মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন। আলী ইবনে আব্বাস বলেন নীচপ্রকৃতি, পরহিংসুক দুরাত্মারা ঈর্ষাবশত অমূলক দোষারোপ করে তাঁর সর্বনাশ করতে চায়। সত্য জানার পর খলিফা মামুন সঠিক ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে চিন্তাভাবনা করার জন্য কিছুক্ষণ চুপ হয়ে ছিলেন।

গ. উপকারীর বন্দী হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের বন্দীর ঘটনা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার বন্দী হওয়ার ঘটনা মনে করিয়ে দেয়।

‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রত্যুপকারের কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে। খলিফা মামুনের সময়ে দামেস্কের জনৈক শাসক পদচ্যুত হন। সে সময় খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র আলী ইবনে আব্বাস নতুন শাসকের সাহচর্যে গেলে সেখানে পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈনিকদের দ্বারা আক্রান্ত হন। পরে স্থানীয় একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে আশ্রয় লাভ করে প্রাণে বেঁচে যান। দুর্ভাগ্যবশত পরবর্তী সময়ে ঘটনাচক্রে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ব্যক্তি খলিফা মামুনের সৈন্য দল কর্তৃক বন্দী হন। আলী ইবনে আব্বাস তাঁর প্রকৃত পরিচয় জানতে পেরে প্রত্যুপকার করতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেন। খলিফা মামুনের কাছে তিনি আশ্রয়দাতা ব্যক্তির মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন।

উদ্দীপকে দেখা যায়, চুরির অভিযোগে কিছু লোক জনৈক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের কাছে হাজির করে। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি বন্দীকে আবুলের বাড়িতে আটকে রাখার নির্দেশ দেন। পরে আবুল জানতে পারে, এই বন্দী ব্যক্তি ১০ বছর আগে তার সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছিল। অন্যদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পেও একইভাবে খলিফা মামুন জনৈক বন্দীকে আলী ইবনে আব্বাসের বাড়তি রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন ওই ব্যক্তিই তাঁর একসময়ের প্রাণ রক্ষাকারী। সুতরাং উদ্দীপকের উপকারীর বন্দী হওয়ার ঘটনা গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষাকারী ও আশ্রয়দাতার বন্দী ও মুক্তির ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।

ঘ. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তিত্ব হলেও উদ্দীপকের আবুল অকৃতজ্ঞ হওয়ায় প্রশ্নের মন্তব্যটি সঠিক। আলোচ্য গল্পে খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস। খলিফা মামুনের সময়ে দামেস্কের জনৈক শাসনকর্তা পদচ্যুত হলে পদচ্যুত শাসকের সৈন্য কর্তৃক আলী ইবনে আব্বাস আক্রমণের শিকার হন। এ অবস্থায় স্থানীয় এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির আশ্রয়লাভ করে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। পরে নীচপ্রকৃতির কিছু পরহিংসুক মানুষের ষড়যন্ত্রের কারণে সেই ব্যক্তি খলিফা মামুনের সৈন্য দল কর্তৃক বন্দী হন। বন্দীর পরিচয় জানতে পেরে আলী ইবনে আব্বাস প্রত্যুপকার করার জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর মুক্তির জন্য খলিফা মামুনের কাছে সুপারিশ করেন।

উদ্দীপকে চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে গেলে তিনি সব ঘটনা শুনে চৌকিদার আবুলের বাড়িতে সেই ব্যক্তিকে আটকে রাখার নির্দেশ দেন। ঘটনাক্রমে আবুল জানতে পারে, বন্দী ব্যক্তি ১০ বছর আগে তাঁরই সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছিল; কিন্তু আবুল নিজের ক্ষতি হবে ভেবে তাকে না চেনার ভান করে চুপ থাকে, যা আবুলের অকৃতজ্ঞতাবোধের প্রকাশ। 

উপকারীর উপকার স্বীকার করে যে ব্যক্তি, সে হলো কৃতজ্ঞ। 

অন্যদিকে যে উপকারীর উপকার স্বীকার করে না, সে হলো অকৃতজ্ঞ। উদ্দীপকের বন্দী ব্যক্তি আবুলের ছেলের জীবন বাঁচালেও আবুল নিজের স্বার্থের কথা ভেবে বন্দী ব্যক্তির পরিচয় জানতে পেরে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উপকার করে ‘প্রত্যুপকারীর’ পরিচয় দেন। এ বিষয় দুটি উদ্দীপকের আবুল ও আলী ইবনে আব্বাসকে আলাদা করেছে। এ থেকেই বোঝা যায় যে আবুল ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দী কর্তৃক উপকৃত হলেও এক রকম নয়।


মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা