
অর্থনীতি: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়–৩
প্রশ্ন: উপযোগ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সাধারণ অর্থে উপযোগ বলতে দ্রব্যের উপকারিতাকে বোঝানো হয়। কিন্তু অর্থনীতিতে এটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। অতএব, অর্থনীতিতে উপযোগ বলতে কোনো দ্রব্যের মানুষের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে বোঝানো হয়।
প্রশ্ন: অর্থনীতির পরিভাষায় জোগান বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অর্থনীতিতে একজন বিক্রেতা কোনো একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে এবং একটি নির্দিষ্ট দামে সরবরাহ করতে ইচ্ছুক ও সমর্থ থাকে, তাকে জোগান বলে।
প্রশ্ন: চাহিদা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: একজন ভিক্ষুকের গাড়ি কেনা কিংবা কৃপণ ব্যক্তির মিষ্টি খাওয়ার শখ চাহিদা হবে না। কারণ, ভিক্ষুকের গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই এবং কৃপণ ব্যক্তির কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা নেই। অর্থনীতিতে চাহিদা হতে হলে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন:
১. কোনো দ্রব্য পাওয়ার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা,
২. ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য এবং
৩. অর্থ ব্যয় করে দ্রব্যটি ক্রয়ের ইচ্ছা। ক্রেতার একটি পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে কেনার আকাঙ্ক্ষা, সামর্থ্য ও নির্দিষ্ট মূল্যে দ্রব্যটি ক্রয় করার ইচ্ছা থাকলে তাকে অর্থনীতিতে চাহিদা বলে।
প্রশ্ন: অর্থনীতিতে ভোগ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অর্থনীতিতে মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করাকে ভোগ বলা হয়। আমরা কোনো জিনিস ধ্বংস বা নিঃশেষ করতে পারি না। আমরা শুধু দ্রব্যগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে এর উপযোগ গ্রহণ করতে পারি। প্রতিদিন আমরা ভাত, মাছ, কলম, ঘড়ি, জামাকাপড় ব্যবহার করি বা ভোগ করি। এখানে ভোগ বলতে কিন্তু এগুলোর নিঃশেষ করাকে বোঝায় না, এগুলোর উপযোগ নিঃশেষ করাকে বোঝায়।
প্রশ্ন: ভোগ ও ভোক্তা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ভোগ: সাধারণত ভোগ বলতে কোনো দ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে তা নিঃশেষ করা বোঝায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মানুষ কোনো দ্রব্য একেবারে নিঃশেষ করতে পারে না। ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রব্যের রূপান্তর ঘটে মাত্র। মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ নিঃশেষ করাকে ভোগ বলা হয়।
ভোক্তা: যে ব্যক্তি ভোগ করে, তাকে আমরা ভোক্তা বলি। অর্থাৎ কোনো অবাধ সহজলভ্য দ্রব্য ছাড়া অন্যসব দ্রব্য ভোগ করার জন্য যে ব্যক্তি অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকে, তাকে ভোক্তা বলা হয়।
প্রশ্ন: মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মোট উপযোগ: কোনো দ্রব্যের বিভিন্ন একক থেকে যে পরিমাণ উপযোগ পাওয়া যায়, তার সমষ্টিকে মোট উপযোগ বলা হয়।
প্রান্তিক উপযোগ: একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক ভোগ করে একজন ভোক্তা যে অতিরিক্ত পরিমাণ উপযোগ লাভ করে, তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে।
প্রশ্ন: চাহিদার সংজ্ঞা দাও। চাহিদা বিধিটি কী?
উত্তর: সাধারণত কোনো দ্রব্য বা সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে চাহিদা বলে। অর্থনীতিতে শুধু আকাঙ্ক্ষাকে চাহিদা বলে না; বরং ক্রেতার একটি পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে কেনার আকাঙ্ক্ষা, সামর্থ্য ও নির্দিষ্ট মূল্যে দ্রব্যটি ক্রয় করার ইচ্ছা থাকলে, তাকে অর্থনীতিতে চাহিদা বলে।
চাহিদা বিধি: কোনো নির্দিষ্ট সময় পণ্যের দাম কমলে তার চাহিদা বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদা কমে। দ্রব্যের দাম ও চাহিদার এ নিয়মই হলো চাহিদা বিধি।
প্রশ্ন: বাজার চাহিদা রেখা কী?
উত্তর: কোনো সমজাতীয় দ্রব্য বিভিন্ন দামে বিভিন্ন ব্যক্তি যে পরিমাণ কিনতে ইচ্ছা থাকে, তা যে চাহিদা রেখার সাহায্যে দেখানো হয়, তাকে বলা হয় বাজার চাহিদা রেখা। ব্যক্তিগত চাহিদা সূচি যোগ করে যেমন বাজার চাহিদা সূচি পাওয়া যায়, তেমনি বিভিন্ন ভোক্তার ব্যক্তিগত চাহিদা রেখাগুলো যোগ করে বাজার চাহিদা রেখা পাওয়া যায়। এ রেখার সাহায্যে বাজারে উপস্থিত কোনো দ্রব্যের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
প্রশ্ন: জোগান বিধিটি কী?
উত্তর: যে বিধির মাধ্যমে দ্রব্যের দামের সঙ্গে তার জোগানের সম্পর্ক নির্দেশ করা হয়, তাকে জোগান বিধি বলা হয়। ‘অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকলে, দাম বৃদ্ধি পেলে জোগান বৃদ্ধি পায় এবং দাম হ্রাস পেলে জোগান হ্রাস পায়।’ দাম ও জোগানের মধ্যে এ ক্রিয়াগত সম্পর্ককেই জোগান বিধি বলা হয়।
মিজানুর রহমান, শিক্ষক
ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা