
প্রাথমিক বিজ্ঞান: অধ্যায়–২
∎ সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
প্রশ্ন: উৎপাদক বলতে কী বোঝো?
উত্তর: সবুজ উদ্ভিদকে উৎপাদক বলা হয়। এরা সূর্যের আলো ব্যবহার করে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে। ঘাস, গাছপালা ও সবুজ শৈবাল হলো উৎপাদকের উদাহরণ।
প্রশ্ন: খাদক কী?
উত্তর: যেসব প্রাণী খাদ্যের জন্য অন্য উদ্ভিদ বা প্রাণীর ওপর নির্ভর করে, তাদের খাদক বলা হয়। এরা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। সব প্রাণীই খাদক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন: প্রথম স্তরের খাদক কারা—উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যেসব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদ বা উৎপাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তারা প্রথম স্তরের খাদক। যেমন- ঘাসফড়িং ঘাস খায়। তাই ঘাসফড়িং একটি প্রথম স্তরের খাদক। গরু, ছাগল, হরিণও প্রথম স্তরের খাদক।
প্রশ্ন: খাদ্যজাল কী?
উত্তর: কোনো বাস্তুসংস্থানে একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল খাদ্য–খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত খাদ্যশৃঙ্খলগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে জালের মতো যে জটিল অবস্থা তৈরি করে, তাকে খাদ্যজাল বলে। এটি একই পরিবেশে বসবাসকারী বিভিন্ন জীবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
প্রশ্ন: প্রকৃতিতে জীব কোথা থেকে শক্তি পায়?
উত্তর: শক্তির প্রধান উৎস হলো সূর্য। সূর্য থেকে আসা সৌরশক্তিই বিভিন্ন জীবে সঞ্চারিত হয়। এই শক্তিই খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এক জীব থেকে অন্য জীবে প্রবাহিত হয়।
প্রশ্ন: শক্তিপ্রবাহ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদক থেকে শক্তি বিভিন্ন স্তরের খাদকের দেহে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকেই শক্তিপ্রবাহ বলে। এই প্রবাহ সব সময় একমুখী হয়। অর্থাৎ শক্তি উৎপাদক থেকে শুরু হয়ে একমুখী প্রবাহের মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্তরের খাদকের দিকে যায়।
প্রশ্ন: হরিণ যখন ঘাস খায়, তখন শক্তি কীভাবে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: ঘাস সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। একটি হরিণ যখন সেই ঘাস খায়, তখন ঘাসের দেহে সঞ্চিত শক্তি হরিণের দেহে স্থানান্তরিত হয়। এভাবেই শক্তি উৎপাদক থেকে প্রথম স্তরের খাদকের দিকে প্রবাহিত হয়।
প্রশ্ন: শক্তিপ্রবাহকে একমুখী বলা হয় কেন?
উত্তর: শক্তি সব সময় উৎপাদক থেকে বিভিন্ন স্তরের খাদকের দিকে যায়, কিন্তু কখনো বিপরীত দিকে ফিরে আসে না। উদাহরণস্বরূপ শক্তি সূর্য থেকে ঘাসে, ঘাস থেকে হরিণে, হরিণ থেকে বাঘে প্রবাহিত হয়, কিন্তু তার বিপরীতটি ঘটে না। তাই শক্তিপ্রবাহকে একমুখী বলা হয়।
প্রশ্ন: পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন কেন?
উত্তর: পরিবেশের কোনো একটি উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যজাল ধ্বংস প্রভৃতি ঘটে থাকে। এতে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে এবং সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই মানুষ ও জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন।
∎ বর্ণনামূলক-উত্তর প্রশ্ন
প্রশ্ন: বেঁচে থাকার জন্য মানুষ জড় উপাদানের ওপর কীভাবে নির্ভর করে? পানি ব্যবহৃত হয়, এমন তিনটি কাজের নাম লেখো।
উত্তর: বেঁচে থাকার জন্য মানুষের জড় উপাদানের ওপর নির্ভরশীলতা নিচে উল্লেখ করা হলো—
১. মানুষ শ্বাসকার্যের জন্য বায়ুর ওপর নির্ভরশীল।
২. পান করা ও অন্যান্য কাজের জন্য পানির ওপর নির্ভরশীল।
৩. খাদ্যশস্য ও বাসস্থানের জন্য মাটির ওপর নির্ভর করে।
পানি ব্যবহৃত হয়, এমন তিনটি কাজ হলো—
১. পান করা, ২. গোসল করা ও
৩. চাষাবাদ করা।
প্রশ্ন: প্রাণীরা বেঁচে থাকার জন্য কিসের ওপর নির্ভরশীল? উদাহরণসহ তিনটি নির্ভরশীলতা উল্লেখ করো। মাটি ও পানিকে আশ্রয় করে বেঁচে থাকে, এমন দুটি করে প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: সব প্রাণীই বেঁচে থাকার জন্য জড়বস্তুর ওপর নির্ভরশীল। প্রাণীদের নির্ভরশীলতার তিনটি উদাহরণ হলো—
১. শ্বাসকার্যের জন্য বায়ুর অক্সিজেন প্রয়োজন।
২. পান করার জন্য পানি অপরিহার্য এবং
৩. অধিকাংশ প্রাণী বাসস্থান হিসেবে মাটি ও পানি ব্যবহার করে।
মাটির নিচে বাস করে, এমন দুটি প্রাণী হলো—
১. কেঁচো ও ২. ইঁদুর।
পানিতে বাস করে, এমন দুটি প্রাণী হলো—
১. মাছ ও ২. কুমির।
প্রশ্ন: শক্তিপ্রবাহ বলতে কী বোঝায়? বাস্তুসংস্থানে শক্তির প্রবাহ কীরূপ? উৎপাদক থেকে শক্তি কীভাবে বিভিন্ন খাদকের দেহে স্থানান্তরিত হয়?
উত্তর: শক্তির প্রধান উৎস সূর্য থেকে সৌরশক্তি বিভিন্ন জীবে সঞ্চারিত হয়। বাস্তুসংস্থানে উৎপাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের খাদকের দেহে শক্তির স্থানান্তরকে শক্তিপ্রবাহ বলে।
বাস্তুসংস্থানে শক্তির এই প্রবাহ একমুখী। অর্থাৎ শক্তি উৎপাদক থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ স্তরের খাদকের দিকে যায়।
সবুজ উদ্ভিদ সূর্য থেকে প্রাপ্ত সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই রূপান্তরিত শক্তি খাদ্যের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।
প্রথম স্তরের খাদক সেই উদ্ভিদকে খেলে শক্তি তাদের দেহে প্রবাহিত হয়। পর্যায়ক্রমে একইভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের খাদকের দেহেও শক্তি স্থানান্তরিত হয়।
লেখক: রমজান মাহমুদ, সিনিয়র শিক্ষক
গবর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুল, ঢাকা