এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬। জীববিজ্ঞান (অধ্যায়–২): ৭টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, উত্তর দিতে হবে ৫টির

জীববিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্ন

অধ্যায়–২

প্রশ্ন: জটিল টিস্যুকে কেন পরিবহন টিস্যু বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: যে টিস্যু গঠন ও কাজের দিক থেকে ভিন্ন প্রকৃতির, তাকে জটিল টিস্যু বলে। জটিল টিস্যু বলতে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুকে বোঝানো হয়। জাইলেম টিস্যু মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ উদ্ভিদের ওপরের দিকে প্রেরণ করে এবং ফ্লোয়েম টিস্যু পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্যকে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে প্রেরণ করে। অর্থাৎ জটিল টিস্যু তথা জাইলেম ও ফ্লোয়েম পানি ও খনিজ লবণ উত্তোলন ও প্রস্তুতকৃত খাদ্যকে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে প্রেরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এভাবে পরিবহন কাজে জটিল টিস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে জটিল টিস্যুকে পরিবহন টিস্যু বলা হয়।

প্রশ্ন: থাইরয়েড গ্রন্থিকে কেন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: যে গ্রন্থি থেকে নালিবিহীন পথে রক্তের মাধ্যমে হরমোন নিঃসৃত হয়, তাকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে।

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নালিবিহীন পথে রক্তের মাধ্যমে হরমোন নিঃসৃত হয়। এ জন্য থাইরয়েড গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয়।

প্রশ্ন: কোন টিস্যু নমনীয় কাণ্ডকে দৃঢ়তা প্রদান করতে সাহায্য করে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কোলেনকাইমা টিস্যু নমনীয় কাণ্ডকে দৃঢ়তা প্রদান করতে সাহায্য করে।

এগুলো বিশেষ ধরনের প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত। কোষপ্রাচীরে সেলুলোজ ও পেকটিন জমা হয়ে পুরু হয়। এদের কোষপ্রাচীর অসমভাবে পুরু হয় এবং কোণাগুলো অধিক পুরু হয়। টিস্যুর কোষগুলো লম্বাটে ও সজীব। এরা প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ কোষ দিয়ে পূর্ণ হয় এবং আন্তকোষীয় ফাঁক থাকতে পারে। কোষপ্রান্ত চৌকোনাকার, সরু বা তির্যক হতে পারে। খাদ্য প্রস্তুত ও উদ্ভিদদেহকে দৃঢ়তা প্রদান করা এদের প্রধান কাজ।

প্রশ্ন: তরুণাস্থি হতে অস্থি ভিন্ন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: নিচের কারণে তরুণাস্থি থেকে অস্থি ভিন্ন।

তরুণাস্থি একধরনের নমনীয় স্কেলেটাল যোজক টিস্যু। কিন্তু অস্থি বিশেষ ধরনের দৃঢ়, ভঙ্গুর ও অনমনীয় স্কেলেটাল কানেকটিভ টিস্যু।

মানুষের নাক ও কানের পিনা তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি, যা নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। অন্যদিকে অস্থির মাতৃকায় ক্যালসিয়াম–জাতীয় পদার্থ জমা হয়ে এর দৃঢ়তা প্রদান করে থাকে।

প্রশ্ন: পরাগায়নে ক্রোমোপ্লাস্টের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বর্ণময় প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলে। ক্রোমোপ্লাস্টে জ্যান্থোফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফ্রাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে। তাই ফুল কোনোটি নীল, কোনোটি হলুদ বা কোনোটি লাল বর্ণের হয়। এদের মিশ্রণের কারণে ফুল, পাতা বা উদ্ভিদেও অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফুলের আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে পতঙ্গ কোনো ফুলের ওপর বসে। ফলে পতঙ্গেও ডানা, পায়ে পরাগরেণু লেগে যায়। একই পতঙ্গ যখন একই প্রজাতির অন্য ফুলের ওপর বসে, তখন পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়। এতে পরাগায়ন সম্পন্ন হয়। এভাবেই পরাগায়নে ক্রোমোপ্লাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক
    সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা