
বিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
অধ্যায়-৩
প্রশ্ন: ইমবাইবেশন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী। উদ্ভিদ দেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থ বিদ্যমান, যথা স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন ইত্যাদি। এসব পদার্থ তাদের কলয়েডধর্মী গুণের জন্যই পানি শোষণ করে। কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কোষপ্রাচীর) যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) শোষণ করে, তাকে ইমবাইবেশন বলে।
প্রশ্ন: ফুলের সুবাস বাতাসে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে?
উত্তর: ফুলের সুবাস ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপন প্রক্রিয়ায় তরল ও গ্যাসের ক্ষুদ্র অণুগুলো বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। যতক্ষণ অণুগুলোর ঘনত্ব সমান না হয়, ততক্ষণ ব্যাপন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ফুলের সুবাসের ঘনত্ব ফুলের নিকটবর্তী স্থানে বেশি, কিন্তু চারদিকে কম। তাই ফুলের সুবাস ব্যাপনের মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন: শুকনা কিশমিশ পানিতে ফুলে যায় কেন?
উত্তর: অন্তঃঅভিস্রবণের প্রক্রিয়ায় কিশমিশের ভেতরে পানি ঢুকে কিশমিশ ফুলে ওঠে।
কিশমিশের ভেতরে কোষরসের গাঢ় দ্রবণ থাকে এবং কিশমিশের কোষপর্দা অর্ধভেদ্য। ফলে বাইরের পাতলা দ্রবণ থেকে পানি অভিস্রবণের প্রক্রিয়ায় ভেতরের ঘন দ্রবণে প্রবেশ করে। ফলে কিশমিশ ফুলে ওঠে।
প্রশ্ন: ‘প্রস্বেদনকে Necessary evil বলা হয় কেন’— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের দেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। কিন্তু প্রস্বেদন উদ্ভিদের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত হয়। এ জন্য প্রস্বেদনকে উদ্ভিদের জন্য একটি Necessary evil (প্রয়োজনীয় ক্ষতি) বলা হয়।
প্রশ্ন: পলিথিনকে কেন অভেদ্য পর্দা বলা হয়?
উত্তর: যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রব উভয় প্রকার পদার্থের অণুগুলো চলাচল করতে পারে না, তাকে অভেদ্য পর্দা বলে। পলিথিনের মধ্য দিয়ে দ্রাবক ও দ্রব অণুর কোনোটিই প্রবেশ করতে পারে না । এ জন্য পলিথিনকে অভেদ্য পর্দা বলা হয়।
প্রশ্ন: মাছের পটকাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলা হয় কেন?
উত্তর: যে পর্দা দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু চলাচল করতে পারে, কিন্তু দ্রব চলাচল করতে পারে না, তাকে বলা হয় অর্ধভেদ্য পর্দা। মাছের পটকার কোষপর্দা দিয়ে শুধু দ্রবণের দ্রাবক অণু (পানি) চলাচল করতে পারে, কিন্তু দ্রব চলাচল করতে পারে না। তাই মাছের পটকাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে।
প্রশ্ন: ‘শুকনা কাঠ পানিগ্রাহী’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কাঠ সেলুলোজ–জাতীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত। আর সেলুলোজ হচ্ছে কলয়েডধর্মী পদার্থ। অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী।
আর শুকনা কাঠে পানির ঘাটতি থাকায় এবং তাদের কলয়েডধর্মী গুণের কারণে ইমবাইবেশন প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে। এ জন্য শুকনা কাঠ পানিগ্রাহী।
মিজানুর রহমান, শিক্ষক, ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা