এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্রের বাইরে বসে পড়াশোনা
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্রের বাইরে বসে পড়াশোনা

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলা ২য় পত্র: পদ্মা নদী

অনুচ্ছেদ যথাযথ লিখলেই নম্বর পাবে ১০

বাংলা ২য় পত্র: অনুচ্ছেদ রচনা

পদ্মা নদী

পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী। ভারতের গঙ্গা নদীর ধারা বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় পদ্মা নামে পরিচিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের কাছে মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়া পর্যন্ত এটি পদ্মা নামে পরিচিত থাকে। এর উত্পত্তি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে এবং এটি বাংলাদেশ অংশে প্রবেশের পরে দক্ষিণমুখী প্রবাহ ধারণ করেছে। পদ্মা নদীর গতি–প্রবাহ বৈচিত্র্যময়। বর্ষাকালে এটি বন্যার মতো ভয়ংকর প্রবাহ সৃষ্টি করে। পদ্মার সর্বোচ্চ গভীরতা দেড় হাজার ফুটের বেশি এবং গড় গভীরতা প্রায় এক হাজার ফুট।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। পদ্মার পানি বণ্টনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চুক্তি রয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন পানির বণ্টন কখনো কখনো বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা রোধ করে। এর ফলে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল, বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী কৃষি ও জলবায়ুতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পানি কমে গেলে শস্য চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জলে মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাঙালির আত্মপরিচয় ও দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে প্রচলিত স্লোগান: ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’। এই স্লোগান পদ্মা নদীসহ বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোকে মানুষের জীবনের অঙ্গ ও জাতীয় চেতনার প্রতীক। পদ্মা নদী মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।

  • ফারুক আহমেদ আবির, প্রভাষক
    মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা