এইচএসসি পরীক্ষা
এইচএসসি পরীক্ষা

এইচএসসি পরীক্ষা–২০২৬

ভাগ্য সব সময়ই নিজের গতিতে চলে

বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

‘জীবন বিনিময়’

জামিল সাহেব একজন শিল্পপতি। তাঁর ছেলে সাহাব। সে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত। সে বর্তমানে সিঙ্গাপুরের এলিজাবেথ হাসপাতালে আছে। সেখানে তার উন্নত চিকিৎসা চলছে। তিনি ছেলের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি রাখছেন না। তিনি তাঁর সবকিছুর বিনিময়ে ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে চান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে টানা তিন বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ছেলের মৃত্যু হয়। নিয়তির কাছে পরাজিত হয় পিতৃস্নেহ।

প্রশ্ন

ক. ‘ভিষকবৃন্দ’ অর্থ কী?

খ. ‘পুত্র আমার বাঁচিয়া উঠিবে মরিবে না নিশ্চয়।’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের জামিল সাহেবের সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।

ঘ. ‘পিতৃস্নেহ সব সময় ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে না।’ উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. ‘ভিষকবৃন্দ’ অর্থ হলো চিকিৎসকগণ।

খ. সৃষ্টিকর্তা বাবরের প্রার্থনা কবুল করছেন বুঝতে পেরে বাবর প্রশ্নের উক্তিটি করেছেন।

দরবেশের কথা মোতাবেক বাবর তাঁর সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ বিসর্জন দেন। নিজের জীবনের বিনিময়ে বাবা আল্লাহর দরবারে কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করেন। বাবরের শরীরে যখন রোগ দেখা দেয়, তখন বাবর বুঝতে পারেন তাঁর প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করেছেন। ফলে বাবর শঙ্কামুক্ত হন যে তাঁর ছেলে বেঁচে উঠবে।

গ. উদ্দীপকের জামিল সাহেবের সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্রাট বাবরের সাদৃশ্য রয়েছে।

‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সম্রাট বাবর পিতৃস্নেহের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছেলে হুমায়ুন দুরারোগ্য ব্যাধিতে। এতে পিতা বাবরের চিন্তার শেষ নেই। তিনি ছেলেকে সুস্থ করার জন্য সবকিছুই করেছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় কবিরাজ, হেকিম ও দরবেশ নিয়ে এসে পুত্রের চিকিৎসা করিয়েছেন। এমনকি সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজ প্রাণের বিনিময়ে হলেও পুত্রের প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন।

উদ্দীপকের জামিল সাহেব একজন স্নেহময় পিতা। ছেলের জন্য তাঁর অপরিসীম মমত্ববোধ রয়েছে। পুত্র সাহাব কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি তার সর্বোৎকৃষ্ট চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। চিকিৎসায় অর্থ ব্যয়ে কোনো কার্পণ্য করেননি।

জামিল সাহেব সব সম্পদের বিনিময়ে তাঁর ছেলের জীবন রক্ষা করতে চেয়েছেন। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সম্রাট বাবর যেমন তাঁর অপত্যস্নেহ, ধনসম্পদ ও ক্ষমতা সবকিছু ব্যবহার করে পুত্রের জীবন বাঁচাতে তৎপর ছিলেন। ঠিক একইভাবে উদ্দীপকের জামিল সাহেবও ছেলেকে বাঁচাতে তাঁর সবকিছু বিসর্জন দিতে প্রস্তুত ছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই সন্তানের জীবন রক্ষায় অসহায় পিতার হৃদয়ের হাহাকার এবং যেকোনো কিছুর বিনিময়ে সন্তানকে বাঁচানোর প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটেছে। এ জন্য উদ্দীপকের জামিল সাহেবের সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্রাট বাবরের সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে জামিল সাহেবের পিতৃস্নেহ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্রাট বাবরের মতো সন্তানের জীবন রক্ষা করতে পারেনি। অর্থাৎ কিছু কিছু ক্ষেত্রে পিতৃস্নেহ ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারলেও সব সময় তা সম্ভব নয়।

‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুনের মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত ছিল। কোনো চিকিৎসাতেই হুমায়ুন সেরে উঠছিলেন না। কিন্তু স্নেহবৎসল পিতার কাছে অবশেষে মৃত্যু হার মানে। বাবর সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের জীবনের বিনিময়ে সন্তানের জীবন ভিক্ষা চান। ফলে বাবরের মৃত্যু হলেও সুস্থ হয়ে যান তাঁর পুত্র হুমায়ুন।

উদ্দীপকের জামিল সাহেব একজন ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাঁর একমাত্র ছেলে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হলে তিনি সিঙ্গাপুরে নিয়ে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করান। তিনি তাঁর সম্পদের বিনিময়ে ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু এত কিছুর পরেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ছেলের মৃত্যু হয়। তার জীবন রক্ষা করতে পারেন না।

‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সম্রাট বাবর তাঁর প্রার্থনার মাধ্যমে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন; কিন্তু উদ্দীপকের জামিল সাহেব অনেক করেও তাঁর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেননি। সব সময় ভাগ্য মানুষের হাতে থাকে না। দৃঢ় মনোবল ও কঠোর প্রার্থনার মাধ্যমে কখনো কখনো মানুষ বিপদমুক্ত হতে পারলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়তির কাছে পরাজিত হয়। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় পিতৃস্নেহ সন্তানকে বাঁচাতে পারলেও উদ্দীপকে পিতার স্নেহ সন্তানকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। উভয় ঘটনা থেকে বোঝা যায়, ভাগ্য সব সময়ই নিজের গতিতেই চলে। পিতার স্নেহ দিয়ে সব সময় ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা