শহীদ মিনারে তরুণ–তরুণীরা ভাষার জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাচ্ছেন
শহীদ মিনারে তরুণ–তরুণীরা ভাষার জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাচ্ছেন

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬

বায়ান্নর ভাষা নিয়ে ‘একুশের গল্প’

বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

একুশের গল্প

# নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
হামিদ চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করা স্বাধীনচেতা ও টগবগে এক তরুণ। ১৯৭১ সালে যোগ দিলেন ক্র্যাক প্লাটুনে। পাওয়ার স্টেশন উড়িয়ে দেওয়াসহ বেশ কিছু অভিযানে সফলতা দেখালেন। কিন্তু জুলাইয়ের ২৫ তারিখ ধরা পড়লেন পাকবাহিনীর হাতে। সহযোদ্ধাদের তথ্য নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর চালানো হলো অমানুষিক অত্যাচার–নির্যাতন। কিন্তু মুখ খুললেন না আজাদ, সবকিছু সহ্য করলেন দাঁতে দাঁত কামড়ে।

প্রশ্ন

ক. গল্পকথকের সঙ্গে তপুর শেষ দেখা হয়েছিল কোথায়?

খ. তপু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়েছিল কেন?

গ. উদ্দীপকের হামিদের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ রচনার কোন চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ. যুগে যুগে হামিদ, তপু, রাহাত, গল্পকথক—এরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায় কেন? উদ্দীপক ও ‘একুশের গল্প’ রচনার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. গল্পকথকের সঙ্গে তপুর চার বছর আগে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখা হয়।

খ. তপু ফিরে আসার পর সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। কারণ, চার বছর আগে হাইকোর্টের মোড়ে মিছিলে তপু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল। তার মৃতদেহ মিলিটারিরা নিয়ে গিয়েছিল। কেউ ভাবেনি, তপু আর কখনো ফিরে আসবে।

অথচ এখন তার অবয়ব ও কঙ্কাল ফিরে এসেছে এমন অবস্থায়, যা দেখে সবাই ভীত ও বিস্মিত। তার কঙ্কালের কপালে গুলির গর্ত এবং বাঁ পায়ের হাড় ছোট থাকার বিষয়টি দেখে তারা নিশ্চিত হয় যে এটি তপুর দেহাবশেষ। এই অপ্রত্যাশিত ও অদ্ভুত ঘটনার জন্য তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল।

গ. উদ্দীপকের হামিদের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’-এর তপু চরিত্রটির মধ্যে গভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।

হামিদ ছিলেন একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। যিনি দেশ স্বাধীনতার জন্য অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেও শত্রুর কাছে নিজের আদর্শ ও সহযোদ্ধাদের তথ্য প্রকাশ করেননি। একইভাবে তপু ছিল মাতৃভাষার অধিকারের সংগ্রামী, যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিল ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য।

হামিদ যেমন নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করেছিলেন, তেমনই তপু নিজের ভবিষ্যৎ, পরিবার ও ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চিন্তা না করে মিছিলে যোগ দিয়েছিল এবং মাতৃভাষার অধিকারের দাবিতে প্রাণ দিয়েছে।

উদ্দীপকের হামিদের মায়ের মতো তপুর মা–ও সন্তানের মৃত্যুর পর গভীর শোক ও মর্মান্তিক যন্ত্রণায় ভুগেছেন। তেমনই তপুর মা–ও তাঁর সন্তানের মৃত্যুর কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

হামিদ ও তপু উভয়ই ছিলেন নিজের সময়ের সাহসী তরুণ, যাঁরা দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকারের জন্য চরম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁদের জীবন আমাদের কাছে আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও আদর্শের প্রতি অটল থাকার উদাহরণ।

ঘ. যুগে যুগে হামিদ, তপু, রাহাত ও গল্পকথকের মতো চরিত্রগুলো এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ, তাঁদের ত্যাগ, আদর্শ ও দেশের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা একসূত্রে গাঁথা।

উদ্দীপকের হামিদ মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন তুচ্ছ করেছেন। তিনি অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেও নিজের সহযোদ্ধাদের রক্ষা করেছিলেন। একইভাবে ‘একুশের গল্প’-এর তপু মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে। তার এই আত্মত্যাগ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি এক গভীর ভালোবাসার প্রতীক।

রাহাত ও গল্পকথক একই সংগ্রামী চেতনা ও দেশপ্রেম ধারণ করে। রাহাত ও তপুর বন্ধু, তপুর মৃত্যুতে শোকাহত হলেও ভাষার অধিকারের জন্য নিজের সংকল্পকে দৃঢ় করে। গল্পকথকও তপু ও রাহাতের মতো যুবকদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের সংগ্রামকে মূল্যায়ন করে।

হামিদ, তপু, রাহাত ও গল্পকথকের মতো ব্যক্তিরা সময় ও পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও আদর্শিকভাবে এক কাতারে দাঁড়ায়। কারণ, তাদের আত্মত্যাগ মানুষের অধিকার ও মর্যাদার জন্য। তাদের ত্যাগ প্রমাণ করে যে দেশের জন্য প্রাণ দেওয়ার মতো মহান কাজ কোনো স্বার্থ দ্বারা পরিমাপ করা যায় না।

হামিদ মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তপু মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য আত্মদান করেছে, আর রাহাত ও গল্পকথক তাদের আদর্শকে পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছে। এভাবে তারা সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ, তাদের সংগ্রাম, ত্যাগ ও ‘দেশপ্রেম’ একই ধরনের মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশ।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা