এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলছে। কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র, ঝিলটুলী, ফরিদপুর, ২১ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা 
চলছে। কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র, ঝিলটুলী, ফরিদপুর, ২১ এপ্রিল ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬। বিজ্ঞান— সবার শরীর গঠনে প্রয়োজন সুষম খাদ্য

বিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্ন

প্রশ্ন: সুষম খাদ্যতালিকা তৈরির সময় কী কী বিষয় খেয়াল রাখতে হবে?
উত্তর:
 সুষম খাদ্যতালিকা তৈরির সময় মানুষের বয়স, লিঙ্গভেদ, কী রকম কাজ করে; অর্থাৎ অধিক পরিশ্রমী, মাঝারি পরিশ্রমী, স্বল্প পরিশ্রমী ইত্যাদি বিবেচনা করা দরকার। কারণ, শিশু ও বৃদ্ধ, বাড়ন্ত শিশু ও গর্ভবতী নারী এদের কোনো নির্দিষ্ট সুষম খাদ্য প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। সুষম খাদ্য তৈরি করে নিতে হয়।

প্রশ্ন: খাদ্যতালিকায় রাফেজযুক্ত খাবার

গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর: 
রাফেজভুক্ত খাবারের গুরুত্ব নিম্নরূপ:

১. এটি পরিপাকে সহায়তা করে। রাফেজ পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

২. শরীর থেকে অপাচ্য খাদ্যনিষ্কাশনে সাহায্য করে।

৩. এটি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

৪. বারবার ক্ষুধার প্রবণতা কমাতে এটি কাজ করে।

প্রশ্ন: দুপুরের খাবারের গুরুত্ব কী?
উত্তর: 
আমাদের দেশে দুপুরের খাবারকে সাধারণত প্রধান খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দুপুরের খাবারে অবশ্যই সুষম খাদ্যতালিকার সাহায্য নিয়ে সেভাবে খাদ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। কারণ, দুপুরের খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: আমাদের রাতের খাবার কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: 
আমাদের রাতের খাবার সাধারণত সহজপাচ্য হওয়া উচিত। রাতে আমিষ–জাতীয় খাবার কম খাওয়া ভালো। রাতে শাক বা টক–জাতীয় কোনো খাদ্য গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন রাতে শোবার আগে আর্থিক সামর্থ্য অনুসারে দুধ বা অন্য শক্তি উৎপাদক তরল খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।

প্রশ্ন: সংরক্ষিত খাদ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন বিষয় খেয়াল রাখতে হবে?
উত্তর: 
সংরক্ষিত খাদ্য ব্যবহারের আগে লক্ষ করতে হবে, যদি খাদ্যের রঙের পরিবর্তন ঘটে অথবা খাদ্য ফুলে ওঠে, খাদ্যের ওপর সাদা অথবা কালো আস্তরণ সৃষ্টি হয় এবং খাদ্যের ওপরটা পিচ্ছিল হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে খাদ্যে পচনক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, খাদ্যের বিষক্রিয়ার ফলে শারীরিক ক্ষতি হবে।

প্রশ্ন: খাদ্য সংরক্ষণে লবণের ব্যবহার ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বিভিন্ন লবণ ব্যবহার করে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। সালফেটের লবণ, যেমন Sodium bisulphite অথবা Potassium-meta bisulphite ব্যবহার করে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করা যায়। Benszonic acid-এর লবণ Sodium benzoate। এটি বিশেষ করে ছত্রাক ইস্টের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করে। ফলের রস, ফলের শাঁস ইত্যাদি সংরক্ষণের জন্য Sodium benzoate খুব উপযোগী।
এ ছাড়া Propionic Acid-এর লবণ ও Sorbic Acid-এর লবণ Sorbates ব্যবহার করে দই, মিষ্টি, পনির, মাখন ও বেকারিসামগ্রী সংরক্ষণ করা হয়।

প্রশ্ন: ইস্ট–জাতীয় ছত্রাক কী কী খাদ্য নষ্ট করে?
উত্তর: 
ইস্ট–জাতীয় ছত্রাক ফলের রস, টমেটোর সস, জেলি, মিষ্টি আচার, শরবত ইত্যাদি খাবার দ্রুত নষ্ট করে ফেলে। এতে খাবারে টক গন্ধ হয় এবং ঘোলাটে হয়ে যায়।

প্রশ্ন: ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: 
৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ, আর তা হলো ১ গ্রাম/সিসি বা ১০০০ কেজি/ মিটার; অর্থাৎ ১ সিসি পানির ভর হলো

১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।

প্রশ্ন: বুড়িগঙ্গা নদীতে মাছ না পাওয়ার কারণ লেখো।

উত্তর: শিল্পকারখানার সৃষ্ট বর্জ্যপানির কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। যার কারণে এটি জলজ প্রাণী–শূন্য প্রায় মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। এ জন্য মাছ পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন: পানি একটি উভধর্মী পদার্থ—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: 
পানি একটি উভধর্মী পদার্থ হিসেবে কাজ করে; অর্থাৎ কখনো অ্যাসিড, কখনো ক্ষার হিসেবে কাজ করে। সাধারণত অ্যাসিডের উপস্থিতিতে পানি ক্ষার হিসেবে, অপর দিকে ক্ষারের উপস্থিতিতে অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে।

  • মো. আবু সুফিয়ান, শিক্ষক
    আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা