প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ এপ্রিল থেকে, শেষ হবে ১৮ এপ্রিল। আর রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হবে ১৭ এপ্রিল থেকে, শেষ হবে ২০ এপ্রিল।
প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের এই পরীক্ষার মাধ্যমেই বৃত্তির জন্য নির্বাচন করা হবে। তাই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে সব বিষয়ে ভালো করে রিভিশন দিতে হবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা হবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ওপর। তোমরা এরই মধ্যে সিলেবাস ও নম্বরবণ্টন পেয়েছ। সিলেবাস ও নম্বরবণ্টনের আলোকে প্রতিটি পরীক্ষার বরাদ্দ সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট অর্থাৎ ১৫০ মিনিটকে ভাগ করে নিয়ে টাইম ম্যানেজমেন্ট বা সময় বণ্টন করে নাও।
মনে রেখো, বাংলায় ১৫টি, ইংরেজিতে ১৩টি, প্রাথমিক গণিতে ১১টি আর প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। প্রতিটি বিষয়ের উত্তর লেখার ধরন কিন্তু ভিন্ন রকম। আর সিলেবাস নিয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর লিখতে কত সময় নেবে, তা পরীক্ষার আগেই ঠিক করে নাও।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সময় যেসব দরকারি জিনিসপত্র লাগে, তা এখনই সংগ্রহ করে হাতের কাছে রাখো। পরে যেন তাড়াহুড়া না করতে হয়। জেনে নাও কী কী জিনিস কিনতে হবে, যেমন প্রবেশপত্র, কলম, পেনসিল, জ্যামিতি বক্স, কাটার, স্কেল, পরীক্ষার সময়সূচি ইত্যাদি আজই জোগাড় করে হাতের কাছে রাখবে। যখন প্রয়োজন, তখন যেন কাজে লাগাতে পারো।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাটি প্রতিযোগিতামূলক। সেই প্রতিযোগিতায় তোমাকে ভালো করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর বুঝে লিখবে। আগে দেখে নেবে কোন প্রশ্নগুলো ভালো পারো, আগে তার উত্তর লিখবে। তারপর মোটামুটি পারো, পরে বাকি প্রশ্নের উত্তর লিখবে। অনেক প্রশ্নই বহুনির্বাচনি বা ছোট উত্তর হয়, তাই আগেই বুঝে নাও কতটা উত্তর লিখবে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর ঠিকভাবে যথাযথভাবে লিখবে।
সব প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় ধারাবাহিকতা রাখবে। এলোমেলোভাবে কোনো প্রশ্নের উত্তর লিখবে না। যাতে পরীক্ষকেরা ঠিকভাবে খাতার উত্তর পড়তে পারেন। ‘ক’ প্রশ্নের পর কখনো ‘ঘ’ প্রশ্নের উত্তর লিখবে না। ধারাবাহিকতার নিয়ম মেনে ‘ক’ প্রশ্নের পর ‘খ’ প্রশ্নের উত্তর লিখবে। এতে পরীক্ষক সহজেই কোন প্রশ্নের উত্তর করেছ, তা বুঝতে পারবেন।
পরীক্ষা শেষে খাতাটি জমা দেওয়ার পালা। খাতা রিভিশনের জন্য তুমি হাতে পাঁচ বা সাত মিনিট সময় আলাদা করে রাখবে। তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, খাতা রিভিশন দেওয়া কেন জরুরি? এর উত্তর হলো—তাড়াতাড়ি লেখার সময় কোনো প্রশ্নের নম্বর, বানান, প্রশ্ন বাদ পড়া ইত্যাদি অনেক কিছু থাকতে পারে। রিভিশন দিলে ভুল থাকলে তা ঠিক করে নিতে পারবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রতিটি বিষয়ে এমন কিছু প্রশ্ন থাকবে, যা লিখলেই পুরো নম্বর পাবে। তাই এসব প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় সতর্ক থাকতে হবে। এসব প্রশ্নের বেলায় উত্তর ঠিক ঠিক লিখতে হবে। মনে রেখো, সব বিষয়ে ভালো নম্বর পেলেই কিন্তু মোট নম্বর বেশি হবে। আর বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে কিন্তু মোট নম্বরের ওপর ভিত্তি করেই দেওয়া হয়।
পরীক্ষার খাতায় লেখার সময় হঠাৎই বানান ভুল হয়ে যায়। তাড়াতাড়ি লেখার সময় এমন হতেই পারে। তাই আগে থেকেই প্রতিটি পরীক্ষায় বানান ভুল হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বানান ভুল হলে পরীক্ষকেরা বিরক্ত হন। তাই পড়ার সময় বানান ভালো করে দেখে পড়বে।
পরীক্ষার খাতা হলো একজন পরীক্ষার্থীর দলিল। সে কেমন লিখেছে, উত্তর কীভাবে সাজিয়েছে, খাতায় কতটা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নভাবে লিখেছে, সবই উঠে আসে তার খাতায়। প্রশ্নে চেয়েছে একটা আর উত্তর দিলে আরেকটা প্রশ্নের, এটা হলো না। মোটকথা, পরীক্ষার খাতায় অপ্রাসঙ্গিক কোনো কিছু লিখবে না।
এখন আবহাওয়াও পরিবর্তন হচ্ছে। বেশি ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সাবধানে থাকবে। শরীরের প্রতি খেয়াল রাখবে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাবে।
মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা