
বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন
গদ্য: একুশের গল্প
প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী, তোমরা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। আজ বাংলা প্রথম পত্রের ‘একুশের গল্প’ গদ্যের ওপর একটি সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়া হলো। তোমরা মনোযোগ দিয়ে প্রশ্নটি পড়বে।
# নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও।
বাংলা বর্ণমালা বড়ই দুঃখিনী। কত কণ্টকাকীর্ণ অনেক পেরিয়ে, বাংলা বর্ণমালা আজ বিশ্বদরবারে সমাদৃত, স্বীকৃত। একসময় বাংলা ছিল অস্পৃশ্য। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর এল পাকিস্তান; কিন্তু শোষিত বাঙালির বঞ্চনার ইতিহাস আরও দীর্ঘ হলো। এভাবে দিনের পর দিন অপমান ও লাঞ্ছিত হতে হতে ১৯৫২ সালে বাঙালি জেগে উঠল। সেই ফাল্গুনে পিচঢালা পথে চলল মিছিল। গগনবিদারী স্লোগানে প্রকম্পিত হলো আকাশ-বাতাস।
প্রশ্ন
ক. গল্পে কার বরাত মন্দের কথা বলা হয়েছে?
খ. ‘তপু না মরে আমি মরলেই ভালো হতো’—রাহাত কথাটি কেন বলেছিল?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি “একুশের গল্প” ছোটগল্পের আংশিক চিত্র তুলে ধরেছে মাত্র।’—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক. গল্পে তপুর বরাত মন্দের কথা বলা হয়েছে।
খ. তপুর মৃত্যুতে তার মা ও স্ত্রীর আর্তনাদ দেখে রাহাত আক্ষেপ করে কথাটি বলেছিল।
তপুর আকস্মিক করুণ মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সেই রাতেই তার মা এসে গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদেছিলেন। তপুর স্ত্রী রেণুও আসে। তার পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিল। তপুর বন্ধুদের দিকে একবারও তাকায়নি সে। এমনকি কারও সঙ্গে একটা কথাও বলেনি। সেই দৃশ্য দেখে গল্পকথকের কানে ফিসফিস করে রাহাত আক্ষেপ করে প্রশ্নের কথাটি বলেছিল।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পে বর্ণিত ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পে লেখক ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরেছেন। মেডিক্যালের ছাত্র তপু আর তার বন্ধুরা অংশ নিয়েছিল বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের মিছিলে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবি নিয়ে সমুদ্রগভীর জনতার সঙ্গে মিছিলে পা বাড়ায় তারা। রাহাত স্লোগান দিচ্ছিল। তপুর হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। প্ল্যাকার্ডে লাল কালিতে লেখা, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। ছেলে-বুড়ো সবাই জমায়েত হয়েছিল বায়ান্নর সেই মিছিলে।
উদ্দীপকে বাংলা বর্ণমালার দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমানে সারা বিশ্বে সমাদৃত ও স্বীকৃতি লাভের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনের জাঁতাকলে বাঙালির বঞ্চনার ইতিহাস দীর্ঘতর হয়। তবে দিনের পর দিন লাঞ্ছনা সহ্য করা বাঙালি জেগে ওঠে বায়ান্নে। স্লোগানে মুখর হয় বাংলার আকাশ-বাতাস, যা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চিত্র প্রকাশ করে। ‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পেও ফুটে উঠেছে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষায় ভাষা আন্দোলনের কথা। তপু ও তার বন্ধুরা ছুটে যায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের মিছিলে। স্লোগানে প্রকম্পিত হয় রাজপথ। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের দৃশ্যই ফুটে উঠেছে উভয় ক্ষেত্রে। তাই উদ্দীপকের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পে বর্ণিত ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উত্তরের সারবস্তু উদ্দীপকের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পের কেবল ভাষা আন্দোলনের আংশিক চিত্র তুলে ধরায় রচনার সামগ্রিক ভাব প্রকাশ করে না।
‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পটির সামগ্রিকতায় ফুটে উঠেছে তিন বন্ধুর আন্তরিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণে ভাষা আন্দোলনকালীন বাংলাদেশের চিত্র। গল্পে আমরা দেখতে পাই, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকালীন বাংলাদেশের বাস্তবতা। রাষ্ট্রভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান তরুণের আত্মত্যাগ। তপু নামের সেই বিপ্লবীর আকস্মিক মৃত্যুতে তার বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীর আর্তনাদ। মৃত্যুর চার বছর পর শহীদ তপু ফিরে আসে কঙ্কালরূপে। তার এই প্রতীকী প্রত্যাবর্তন নির্দেশ করে জাতীয় বীরদের মৃত্যু নেই। তারা ফিরে আসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যুক্তির প্রেরণা জোগাতে।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে দুঃখিনী বাংলা বর্ণমালায় অধিকার অর্জনের কণ্টাকাকীর্ণ পথচলার ইতিহাস। ব্রিটিশদের চলে যাওয়ার পর আসে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ফলে শোষিত বাঙালির বঞ্চনার ইতিহাস আরও দীর্ঘ হয়। দীর্ঘদিন অপমান আর লাঞ্ছনা সহ্য করে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় বায়ান্নে জেগে ওঠে বাঙালি। রাঙা ফাল্গুনের পিচঢালা পথে নামে মিছিল। বাংলা ভাষার মর্যাদা আদায়ের স্লোগানে প্রকম্পিত হয় আকাশ-বাতাস। এভাবেই বাংলা ভাষা আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে, স্বীকৃতিও পেয়েছে।
‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ব্যতীতও বিস্তৃত বিষয় ফুটে উঠেছে। গল্পে বন্ধুত্বের আন্তরিক সম্পর্ক, পারিবারিক সম্পর্ক ও স্বপ্নবান তরুণের মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগ, বন্ধুর স্মৃতিকাতরতা এবং তারুণ্যের বিপ্লবী চেতনার প্রকাশ ঘটেছে।
একইভাবে তপুর চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন গল্পের ভাব সম্পর্কে অন্য মাত্রা দান করেছে। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে বাংলা ভাষার কণ্টকাকীর্ণ পথচলার ইতিহাস। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ঘর থেকে বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বাঙালির নবজাগরণ ও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। যা ‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পে আংশিক চিত্র তুলে ধরেছে মাত্র। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পের আংশিক চিত্র তুলে ধরায় মন্তব্যটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা